মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর সঙ্গে শেষ দেখা শেষে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ থেকে বের হলেন পরিবারের ৩৮ সদস্য।
আজ (শনিবার) বিকেল পৌনে ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা ৮ মিনিট পর্যন্ত (এক ঘণ্টা ২৩ মিনিট) সব সদস্য পর্যায়ক্রমে দেখা করেন।
গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এর জেলার নাশির আহমেদ জানান, বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে ৬টি গাড়িতে করে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর পরিবারের সদস্যরা কারাগারে আসেন।
পরে নিয়মমতে তারা কারা কর্তৃপক্ষের কাছে সাক্ষাতের জন্য আবেদন করেন। পরিবারের ৩৮ জনকেই কিছু সময়ের জন্য সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হয়।
কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এর ৪০ নম্বর কনডেম সেলে রাখা হয়েছে মীর কাসেমকে।
এর আগে বেলা সাড়ে ১টার দিকে রাজধানীর মিরপুর মণিপুরের ‘রহমত মঞ্জিল’ থেকে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারের উদ্দেশে যাত্রা করেন তারা। প্রথমে ছোট মাইক্রোতে রওনা হলেও পথিমধ্যে গাড়ি পরিবর্তন করা হয়। তখন হায়েস গাড়িতে করে কারাগারে যান তারা।
উল্লেখ্য, এর আগে ছেলেকে ফিরে পাওয়ার শর্ত দিয়ে দুই দিন কাটানোর পর রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করবেন না বলে গতকাল শুক্রবার সিদ্ধান্ত জানিয়েছিলেন ৬৩ বছরের মীর কাসেম আলী।
তাঁর ফাঁসি কার্যকরে এখন আর কোনো বাধা নেই। যেকোনো সময়ে মীর কাসেম আলীর ফাঁসি হতে পারে বলে জানান কারা কর্মকর্তারা।
কারা কর্তৃপক্ষের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গতকাল বলেছেন, আজ (শনিবার) রাতে তাঁর ফাঁসি কার্যকর করার মতো প্রস্তুতি তাঁদের রয়েছে। কাশিমপুর কারাগারেই ফাঁসি কার্যকর করা হবে।
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অন্য আসামিদের মৃত্যুদণ্ড যেভাবে কার্যকর করা হয়েছে, ওই প্রক্রিয়ায় মীর কাসেম আলীর ফাঁসি কার্যকর করা হবে।
ফাঁসি কার্যকরের আগে মীর কাসেম আলীর স্বজনেরা শেষবারের মত তাঁর সঙ্গে একবার দেখা করার সুযোগ পেয়ে করাগারে যান।
মীর কাসেমের আইনি লড়াইয়ে রিভিউ আবেদনই ছিল শেষ ধাপ। গত বুধবার (৩১ আগস্ট) মীর কাসেমের করা রিভিউ আবেদন খারিজ করে দেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। ওই দিনই মীর কাসেমের পরিবারের সদস্যরা তাঁর সঙ্গে কারাগারে সাক্ষাৎ করেন।
এসএম





