তিনটি সুনির্দিষ্ট কারণে জামায়াতের আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আজ (মঙ্গলবার) রায় ঘোষণা করতে পারেনি।
এর আগে আদালত একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার জন্য আজ (মঙ্গলবার) সকালে দিন ধার্য করে।
রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালত এলাকাসহ পুরো ঢাকা শহরেই নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়। ট্রাইব্যুনাল এলাকায় মোতায়েন করা হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল সংখ্যক অতিরিক্ত সদস্য।
রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সকালেই আদালতে হাজির হন রাষ্ট্র ও আসামী পক্ষের আইনজীবীরা। কিন্তু হঠাৎ করেই কারা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আদালতে একটি চিঠি আসে। সেই চিঠিতে জানানো হয় মাওলানা নিজামীকে অসুস্থতার কারণে আদালতে হাজির করা সম্ভব হচ্ছে না।
কিন্তু এর আগে বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ মাওলানা আবুল কালাম আযাদ ও জামায়াতের সাবেক নেতা আশরাফ উদ্দিন ও মঈনুদ্দিনের অনুপস্থিতেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদন্ডের রায় দেয়।
ইতোমধ্যেই তিনজনের অনুপস্থিতিতে ট্রাইব্যুনাল তাদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদন্ডের রায় দিলেও মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে তার অনুপস্থিতিতে রায় দেয়া কেন সম্ভব নয়, কোন আইনী জটিলতা আছে কীনা-এসব বিষয় পর্যালোচনা করতে গিয়েই এই তিনটি কারণের কথা জানা যায়।
ট্রাইব্যুনাল আইন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, শুধুমাত্র তিনটি কারণে আসামী আদালতে অনুপস্থিত থাকলেই কেবল তার অনুপস্থিতিতে রায় দেয়া সম্ভব। অন্যথায় নয়। মাওলানা নিজামীর আদালতে অনুপস্থিতির ক্ষেত্রে এই তিনটি কারণের কোনটিই প্রযোজ্য হয়নি।
এই তিন কারণের মধ্যে রয়েছে: ১. কেউ পলাতক খাকলে তার অনুপস্থিতিতে রায় দেয়া যাবে, ২. কোন আসামী সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই আদালতে উপস্থিত হতে অস্বীকৃতি জানালে তার অনুপস্থিতিতে রায় দেয়া যাবে এবং ৩. কোন আসামী দীর্ঘদিন অসুস্থতার কারণে আদালতে উপস্থিত হতে না পারলে এবং কতদিনে সুস্থ হয়ে আদালতে ফিরতে পারবেন সে ব্যাপারেও নিশ্চিত হওয়া না গেলে তার অনুপস্থিতিতে রায় দেয়া যাবে।
আজ (মঙ্গলবার) সকালে আদালতে নিজামীর অসুস্থতা সংম্বলিত কারা কর্তৃপক্ষের চিঠি নিয়ে পর্যালোচনাকালে আসামী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম এই সুনির্দিষ্ট তিন কারণের কথা উল্লেখ করে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
সকাল ১১টার কিছু আগে বিচারপতিগণ ট্রাইব্যুনালের এজলাসে প্রবেশ করেন। এরপর প্রসিকিউটর মোঃ আলী শুনানি করেন। নিজামী অসুস্থ বিধায় আদালতে হাজির সম্ভব নয় মর্মে কারাকর্তৃপক্ষের দেয়া রিপোর্টটি মোঃ আলীকে দেখানো হয়। এরপর এটা চীফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপুকেও দেখতে বলেন।
এরপর মোঃ আলী শুনানিতে বলেন, আসামীর অনুপস্থিতিতে রায় প্রদান করা হবে কিনা সেটা ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ার। চীফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু বলেন, দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী রায় ঘোষণার সময় আসামীকে আদালতে উপস্থিত থাকতে হবে।
এরপর নিজামীর আইনজীবী মিজানুল ইসলাম বলেন, ট্রাইব্যুনাল আইনের ৪৩এ ধারা অনুযায়ী আসামীর অনুপস্থিতিতে কোন শুনানি কিংবা রায় ঘোষণা করা সম্ভব নয়। পরে আদালত রায় ঘোষণা না করে চতুর্থবারের মতো যে কোন দিন রায় ঘোষণা করা হবে মর্মে আবারও সিএভিতে রাখেন।
এদিকে, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষের চিঠির মাধ্যমে নিজামীর উচ্চ রক্তচাপের কথা জানা গেছে। এছাড়া তার আর কোন সমস্যা আছে কীনা সে ব্যাপারে কিছুই জানা যায়নি।
নিজামীর সবশেষ শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমরা কারা কর্তৃপক্ষের চিঠির মাধ্যমেই তার অসুস্থতার কথা জানতে পেরেছি। এর বাইরে আমরা কিছু জানিনা।
ঢাকা, কেএ ২৪ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেবি





