নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমানের হুমকির শিকার এএসপি বশিরকে ফেসবুকে ‘হিরো’ আখ্যা দিয়েছেন ফেসবুক ব্যবহারকারীরা। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের উপনির্বাচনে জাল ভোটের বিরুদ্ধে তার সাহসী প্রতিবাদে ফেসবুক ব্যবহারকারীরা তাকে এই হিরোর খ্যাতি দেন।
বশিরের ফেসবুক ওয়ালে দেখা যায়, এমএমএ হাশেম নামে তার (বশির) একজন শিক্ষক গর্ব করে লিখেছেন- ‘জাতির কল্যাণে সাহসিকতার সঙ্গে এগিয়ে যাও। বশির, আমরা তোমাকে স্যালুট করি। তুমি আমাদের গর্ব।’
এমএমএ হাশেম খুলনা প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক। বশির এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
শিক্ষক হাশেমের মতো সহকর্মী, বন্ধু, সহপাঠী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জুনিয়র শিক্ষার্থী ছাড়াও বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা এবং শুভাকাঙ্খীরা বশিরের সাহসিকতার জন্য তার ফেসবুক ওয়ালে ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
শুধু প্রশংসাই নয়, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের উপনির্বাচনে জাল ভোট প্রদানে বাধা দিয়ে সাহসিকতার পরিচয় দেওয়ায় বহু সংখ্যক ফেসবুক পেজে বশিরের অসংখ্য ছবি পোস্ট করা হয়েছে। এসব পেজে বিভিন্ন প্রশংসার পাশাপাশি তাকে ‘নায়ক’ আখ্যায়িত করা হয়েছে।
তবে অনেক ফেসবুক ব্যবহারকারী বশিরের জীবন ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
কুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান বাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘বশিরকে টিভিতে আমি কথা বলতে দেখেছি। আমি তার এই সাহকিতায় আশ্চর্য হইনি। কারণ, তাকে আমি বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকেই চিনি। তিনি অন্যায়কে কখনো প্রশ্রয় দেন না।’
উল্লেখ্য, বশিরও ২০০৪ সালে কুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন।
মেহেদি বাবু বলেন, ‘বশির একজন ভদ্র ও সৎ মানুষ। তিনি ছিলেন বহুগুণের অধিকারী। তাই তিনি ক্যাম্পাসে অনেক জনপ্রিয় ছিলেন।’
মেহেদি বাবুর মতো বশিরের অনেক সহপাঠীও একই ধরনের মন্তব্য করেন।
৩০তম বিসিএস’এ উত্তীর্ণ বশিরের একজন সহকর্মী রাজশাহীর সারদায় পুলিশ একাডেমিতে প্রশিক্ষণের দিনগুলির স্মৃতিচারণা করে বলেন, ‘সে (বশির) কখনো অন্যায় কিংবা অনৈতিক কিছু সহ্য করতে পারতো না। তার প্রিয় রাজনৈতিক দলের (আওয়ামী লীগ) বিরুদ্ধে কেউ কিছু বললে সে তার সঙ্গে তর্ক করতো। আমি বিএনপিপন্থী অনেকের সঙ্গে তাকে বেশ কিছুদিন তর্ক করতে দেখেছি।’
৩০তম বিসিএস’এ উত্তীর্ণ হয়েই পুলিশে নিয়োগ পান বশির। এরপর প্রশিক্ষণ শেষে মানিকগঞ্জে শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজে যোগ দেন তিনি। শিক্ষানবিশ সময়সীমা শেষে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশে যোগ দেন বশির।
তার ওই সহকর্মী আরো বলেন, ‘আমি যতদূর জানি পুলিশে চাকরি নেওয়ার আগে বশির টেক ভ্যালি লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন এবং চাকরি নিতে সে কোনো রাজনৈতিক তদবির করেনি।’
বশিরের সঙ্গে প্রশিক্ষণ নেওয়া আরেকজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা তার বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম। সেখানে আওয়ামী লীগের কিছু এমপি ও শীর্ষ পর্যায়ের কিছু নেতাও ছিলেন।’
বশির ১৯৮৩ সালের ৩০ মে জন্ম গ্রহণ করেন। ১৯৯৮ সালে আশুগঞ্জের হাজী আব্দুল জলিল হাইস্কুল থেকে তিনি এসএসসি পাশ করেন। আর ২০০০ সালে নটরডেম থেকে এইচএসসি পাশ করেন।
গত বৃহস্পতিবার শামীম ওসমানের হুমকির পর বশির বলেন, ‘শামীম ওসমান আমাকে যে অন্যায় ও অনৈতিক কাজ করতে বলেছেন পুলিশের পোশাক পরে আমি তা করতে পারিনি। একজন পুলিশ কর্মকর্তা হয়ে, গণপ্রজাতন্ত্রের একজন সেবক হয়ে এবং সচেতন নাগরিক হিসেবে আমি জাল ভোট প্রদানের জন্য একটি কেন্দ্র ছেড়ে দিতে পারি না।’
তিনি বলেন, ‘তখন আমি শামীম ভাইকে বলেছিলাম তিনি যা করছেন তা দল ও সরকারের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন করবে। আমি আমার বিবেক বোধ থেকেই প্রতিবাদ করেছি।’
বশিরের সহকর্মী, সহপাঠী এবং দলীয় নেতাকর্মী অনেকেই বলেছেন, ‘শামীম ওসমানের মতো একজন বিতর্কিত ও প্রভাবশালী এমপির বিরুদ্ধে বশির যে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে তা সম্ভব হয়েছে কেবল ছাত্রলীগের একজন সৎ ও বলিষ্ঠ কর্মী হওয়ার কারণে।
উল্লেখ্য, গত ২৬ জুন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিজয়ী হন শামীম ওসমানের মেজ ভাই সেলিম ওসমান। ভোটগ্রহণের সময় সেখানকার ইউপির চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম তার অনুসারীদের নিয়ে সেলিম ওসমানের পক্ষে জাল ভোট দিতে কেওডালা প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে যান। এএসপি বশির তাতে বাধা দেন। এসময় ওই চেয়ারম্যান পুলিশ সদস্যদের নানা ধরনের হুমকি-ধমকি দেন।
এরপর শামীম ওসমান বশিরকে মোবাইল ফোনে হুমকি দেন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এসময় ভবিষ্যতে বশিরকে দেখে নেওয়ারও হুমকি দেন এমপি শামীম ওসমান। সূত্র: ঢাকা ট্রিবিউন
ঢাকা, ৩০ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম)//এসএইচ





