সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েই চলেছে বখাটেদের উৎপাত আর মেয়েদের উত্ত্যক্ত করার ঘটনা। আর এর জের ধরে বাড়ছে আত্মহননের ঘটনাও। সামাজিক ও নৈতিকতার অবক্ষয় ছাড়াও এজন্য প্রশাসনিক দুর্বলতাকে দায়ী করছেন বিশ্লেষকরা। পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালত চালুর তাগিদ দিয়েছেন তারা।

রাস্তাঘাটে মেয়েদের উত্যক্ত করার ঘটনা যেন বেড়েই চলছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশেপাশে ও পাড়া মহল্লায় উঠতি বয়সী বখাটেদের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ নারীসমাজ। ক'দিন পরপরই গণমাধ্যমে আসছে এধরনের অনেক ঘটনার খবর। প্রতিবাদ করতে গেলে নানারকম হয়রানীর পাশাপাশি এদের হাতে প্রাণ ও হারাচ্ছেন অনেকে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত ও বেসরকারি হিসেবে গত ৬ বছরে উত্যক্ত করার ঘটনা ঘটেছে ৩,৬১৯ টি আর এ কারণে আত্মহত্যা করেছেন ৮৫ জন মেয়ে। আর গত ৯ মাসে উত্যক্ত করার ঘটনা ঘটেছে ৪২৫ টি। এ কারণে আত্মহত্যা করেছেন ১৬ জন । আর শুধু সেপ্টেম্বরেই এরূপ ঘটনা ৬৬ টি।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ সভাপতি আয়েশা খানম বলেন, "খুব উদ্ভ্রান্ত একটি তরুণ সমাজ আমরা গড়ে তুলচ্ছি। দেশের অন্যান্য দিক থেকে যে অগ্রগতি তার সঙ্গে আমাদের তরুণদের ভবিষ্যৎ এবং তাদেরকে কিভাবে গড়ে তোলা যায় এই নিয়ে জাতীয় পরিকল্পনার বিষয়ে যুব-মন্ত্রণালয়কে গভীরভাবে ভাবা দরকার।"

তিনি আরও বলেন, "মোবাইল কোর্টের মতো দ্রুত বিচার আদালতের উদ্যোগ নেয়া হলে কিছুটা বখাটেদের উৎপাত কমবে।"

অন্যদিকে ডিএমপি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ শাখা যুগ্ম কমিশনার মো. মাসুদুর রহমান বলেন, "শুধু আইন প্রয়োগ নয় সন্তানদের গড়ে তুলতে পরিবারিকভাবে অভিভাবকদের সচেতন ভূমিকা পালন করা জরুরী বলে মনে করি আমি।"

এ ধরনের অপরাধ কমিয়ে আনতে পারিবারিক ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ছেলেমেয়েদের নৈতিক শিক্ষাদান এবং পাঠ্যপুস্তকে এ সংক্রান্ত আইন ও সাজার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনরা।

জেআই