মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীকে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার পার্ট-২ থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়েছে।

সোমবার (২০ জুন) সকাল ৭টা ২০ মিনিটে পুলিশের প্রিজন ভ্যানে করে তাকে কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাশিমপুর কারাগার পার্ট-২ এর সিনিয়র জেল সুপার প্রশান্ত কুমার।

উল্লেখ্য, জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলী কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের ফাঁসির কনডেম সেলে বন্দী ছিলেন। গ্রেফতারের পর ২০১২ সাল থেকে তিনি এ কারাগারে ছিলেন।

২০১৪ সালের আগে তিনি এ কারাগারে হাজতবাসকালে ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দির মর্যাদায় ছিলেন। পরে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তির পর তাকে ফাঁসির কনডেম সেলে পাঠানো হয়।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এই সদস্যকে ২০১৪ সালের নভেম্বরে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

এই রায়ের বিরুদ্ধে জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলী আপিল করলে সেখানে তার সর্বোচ্চ সাজা বহাল থাকে।সর্বশেষ রোববার ওই রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করেছেন মীর কাসেম আলী।

রিভিউয়েও যদি মীর কাসেম আলীর ফাঁসির রায় বহাল থাকে তবে তার সামনে খোলা থাকবে কেবল রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার সুযোগ।

ক্ষমা চেয়ে ক্ষমা না পেলে রাষ্ট্র তার দণ্ড কার্যকর করবে। তবে ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি তাঁর একান্ত ব্যাক্তিগত সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে।

এদিকে, ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে গত ৮ মার্চ মীর কাসেম আলীর আপিল খারিজ করে দেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের আপিল বিভাগের বেঞ্চ।

আপিলের রায়ে কিশোর মুক্তিযোদ্ধা জসিম উদ্দিন আহমেদকে খুনের দায়ে এক অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড এবং আরও ছয় অভিযোগে ৫৮ বছর কারাদণ্ডের সাজা বহাল রাখা হয়েছে।

এর মধ্যে ১২ নম্বর অভিযোগে হত্যার দায় থেকে এই জামায়াত নেতা অব্যাহতি পেলেও ১১ নম্বর অভিযোগ সর্বোচ্চ সাজাই বহাল রাখা হয়েছে।

এর আগে ২০১৪ সালের ২ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে দুই অভিযোগে মীর কাসেম আলীর মৃত্যুদণ্ড এবং আট অভিযোগে সব মিলিয়ে ৭২ বছরের কারাদণ্ড হয়েছিল।

একাত্তরে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ২০১২ সালের ১৭ জুন মতিঝিলে নয়া দিগন্ত কার্যালয় থেকে গ্রেপ্তার করা হয় দিগন্ত মিডিয়া কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান এই ব্যবসায়ীকে। পরের বছর ৫ সেপ্টেম্বর অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় তার বিচার।

এসএম