নাস্তিক এবং রাসুল (স.) কে কটূক্তিকারীদের ফের হত্যার হুমকি দিয়েছে ‘আনসার আল ইসলাম বাংলাদেশ - ২’। তাদের পরবর্তী টার্গেট কারা সে বিষয় ব্যাখ্যা দিয়েছে পেজটিতে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর ড. একেএম শফিউল ইসলাম লিলনের হত্যার দায় স্বীকার করে গত ১৫ নভেম্বর পেজটি খোলা হয়। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পেজটি সচল দেখা গেছে।
মঙ্গলবার রাতে পেজটিতে তাদের টার্গেট জানিয়ে একটি স্টাটাস দেয়া হয়েছে।
পাঠকদের জন্য তাদের স্টাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হল-
“আমাদের পরবর্তী টার্গেটঃ

মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেছেনঃ
قَاتِلُوهُمْيُعَذِّبْهُمُاللّهُبِأَيْدِيكُمْوَيُخْزِهِمْوَيَنصُرْكُمْعَلَيْهِمْوَيَشْفِصُدُورَقَوْمٍمُّؤْمِنِينَ
“যুদ্ধ কর ওদের সাথে, আল্লাহ তোমাদের হাতে তাদের শাস্তি দেবেন। তাদের লাঞ্ছিত করবেন, তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের জয়ী করবেন এবং মুমিনদের অন্তরসমূহ প্রশান্ত করবেন”। (সূরা তাওবাঃ ১৪)
আপাতত আমাদের পরবর্তী টার্গেটগুলো হচ্ছেঃ
ক। রাসুল (সাঃ)-কে হেয়কারী, কটূক্তিকারী নাস্তিকগোষ্টী। উল্লেখ্যঃ কেউ ব্যক্তিজীবনে নাস্তিক হলেই আমরা তাকে টার্গেট করছি না। বরং আমাদের টার্গেট শুধু তারাই যারা নাস্তিকতার আড়ালে রাসুল (সাঃ)-কে কটূক্তি করছে।
খ। যারা নিজ নিজ পরিম-লে যে কোন ভাবেই হোক ইসলামী শরীয়াতের আহকাম পালনে বাঁধা দিচ্ছেঃ
- হোক সে কোন ভার্সিটি-কলেজ-স্কুলের প্রধান-শিক্ষক।
- কিংবা কোন এলাকার মেয়র-মোড়ল-মাতব্বর।
- কিংবা কোন প্রতিষ্ঠানের প্রধান।
- কিংবা কোন বিচারক-আইনজীবী-চিকিৎসক।
- ইত্যাদি।
গ। যারা লেখনীর মাধ্যমে ইসলামের যে কোন দিককে ইচ্ছাকৃতভাবে বিকৃত করে উপস্থাপনের মাধ্যমে সাধারণ মুসলমানদেরকে ইসলাম থেকে দূরে সরানোর পশ্চিমা-ভারতীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নে তৎপরঃ
- হোক সে কোন গল্পকার-ঔপন্যাসিক।
- কিংবা কোন কবি-বুদ্ধিজীবি।
- কিংবা কোন পত্রিকার সাংবাদিক-সম্পাদক।
- কিংবা কোন নাট্যকার-সিনেমা প্রযোজক-অভিনয় শিল্পী।
- ইত্যাদি।
ঘ। যারা নিজেদের বক্তৃতা-বিবৃতির মাধ্যমে ইসলামী শরীয়াতের বিরোধিতা করছে, ইসলামী শরীয়াতকে নিয়ে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য, কটূক্তি করছে।
ঙ। যারা এই মুসলিম সমাজে বিভিন্ন প্রকার অশ্লীলতা-বেহায়াপনা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেয়ার সাথে যুক্ত। উল্লেখ্যঃ ইসলামী শরীয়াত অনুযায়ী, ‘ব্যক্তিগতভাবে কোন হারাম কাজ করা’ আর ‘সমাজকে কোন হারাম কাজের দিকে নিয়ে যাওয়া’ এর মাঝে আকাশ-পাতাল পার্থক্য আছে।
চ। যারা এদেশের শিক্ষা-সংস্কৃতি-অর্থনীতি থেকে ইসলামী শরীয়াতের অবশিষ্টাংশকেও ছেটে ফেলার অপচেষ্টা করছে।
ছ। যারা এই জমীনে দ্বীন ইসলামের আলোকে নিভিয়ে দেয়ার জন্য তৎপর।
মূলকথাঃ যারাই আল্লাহ, তাঁর রাসুল (সাঃ) ও তাঁর দ্বীনের বিরুদ্ধে লেখনী-কথা- কাজের মাধ্যমে বিরোধিতা-যুদ্ধে লিপ্ত, এমন সকল মুরতাদ ও ইসলামের শত্রুরাই আমাদের টার্গেট ইনশাআল্লাহ।
কোন সাধারণ মুসলমান, সাধারণ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীষ্টান কিংবা যারা আল্লাহর দ্বীনের সাথে শত্রুতা করছে না, তারা কখনোই আমাদের টার্গেট নয় যদিও ‘হলুদ আলো’ (প্রথম আলো) ধরনের কুফরীপন্থী পত্রিকাগুলো হলুদ সাংবাদিকতার মাধ্যমে আমাদের বিরুদ্ধে এই অপপ্রচার চালায়।

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যেনো মুজাহিদীনদের হাতে তাঁর শত্রুদেরকে শাস্তি প্রদান করেন এবং মুমিনদের অন্তরকে প্রশান্ত করেন।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যেনো এই জমীনে ইসলামী শরীয়াতকে বিজয়ী করে দেন।
নিশ্চয়, বিজয় শুধুমাত্র আল্লাহর কাছ থেকেই আসে। তিনিই আমাদের একমাত্র সাহায্যকারী, আমাদের একমাত্র অভিভাবক। আমরা শুধু তাঁরই ইবাদত করি ও তাঁর কাছেই সাহায্য চাই।
তিনিই সকল প্রশংসার একমাত্র যোগ্য। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক নবী মুহাম্মাদ (সাঃ) এর উপর।
নোটঃ ইসলামী শরীয়াতে গুপ্ত-হত্যার অনুমতি আছে কিনা, এই ব্যাপারে যাদের প্রশ্ন আছে তারা ‘আল ইগতিয়াল : গুপ্তহত্যার বিষয়ে ইসলামী বিধান’ প্রবন্ধটি পড়তে পারেন।”
এখানে একটি ব্লগের লিংক দেয়া হয়েছিল।
এবিষয় মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ‘পেজটির বিষয় খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে।’
কেএইচ





