নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুনেরঘটনায় চার্জশিটভুক্ত আসামি নূর হোসেনকে তিন মাস পর কলকাতার আদালতে হাজির করা হয়েছে। অন্যদিকে, কৈখালির আবাসন থেকে নূর হোসেনের সঙ্গে ধরা পড়া খান সুমনকে নিয়ে বিপাকে পড়েছেন আইনজীবী অনুপ ঘোষ। কারণ গত তিন মাসে এক দিনও যোগাযোগ করেননি খান সুমন।

তিনি বুধবার আদালতে হাজির হননি। ২২ এপ্রিলও খান সুমন আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন। আইনজীবী অনুপ ঘোষ বলেন, ২২ এপ্রিলের আগে একটি মেডিকেল সার্টিফিকেট পাঠিয়ে তিনি (খান সুমন) জানান, খুবই অসুস্থ।

বুধবার বারাসত আদালতকে বিষয়টি জানান আইনজীবী অনুপ কুমার ঘোষ। সব শুনে অনুপস্থিতির কারণে খান সুমনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। এ ছাড়া ২৪ আগস্ট মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ঘোষণা করা হয়।

আইনজীবী অনুপ ঘোষ আরও বলেন, নূর হোসেনকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে এখনও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এসে পৌঁছায়নি আদালতে। দমদম কারাগারে বন্দি নূর হোসেন ভালোই আছেন। বুধবার বারাসত আদালতে প্রিজন ভ্যান থেকে নেমে নূর হোসেন এমন তথ্য জানান। এ সময় তার সঙ্গে ধরা পড়া ওয়াহেদুজ্জামানও উপস্থিত ছিলেন।

২২ এপ্রিল বারাসত আদালতে নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুনের অন্যতম অভিযুক্ত নূর হোসেন এবং তার দুই সহযোগীর বিরুদ্ধে ভারতে অবৈধ প্রবেশ মামলার চার্জগঠন হওয়ার কথা থাকলেও জামিনে মুক্ত খান সুমন অনুপস্থিত থাকায় তা হয়নি। তিন মাস পর বুধবারও খান সুমন আদালতে অনুপস্থিত থাকেন।

গেল বছর ১৪ জুন কলকাতায় নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু বিমানবন্দর সংলগ্ন বাগুইয়াটি থানা এলাকার কৈখালির ইন্দ্রপ্রস্থ আবাসন থেকে নূর হোসেন এবং তার দুই সহযোগী খান সুমন ও ওয়াহেদুজ্জামান সেলিমকে গ্রেফতার করা হয়। ১৮ আগস্ট তিনজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা পড়ে বারাসত আদালতে।

প্রসঙ্গত, গত বছর ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন কুমার সরকারসহ সাতজনকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জের লিংক রোড থেকে অপহরণ করা হয়। ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদীর বন্দর উপজেলার মদনগঞ্জ চর ধলেশ্বরী নদীর তীর থেকে ছয়জন এবং পরের দিন অপর একজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

এএইচ