ঝিনাইদহ সদর উপজেলার উত্তর কাস্ট সাগরা গ্রামের শ্রী শ্রী রাধামদন গোপাল মঠ মন্দিরের সেবায়েত শ্যামানন্দ দাস ওরফে বাবাজিকে (৫০) কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান হাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, শ্যামানন্দ দাস মন্দিরের পাশে পূজার জন্য ফুল কুড়াচ্ছিলেন। এ সময় তিনজন দুর্বৃত্ত মোটরসাইকেল যোগে গিয়ে তাকে রাম দা দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে পালিয়ে যায়।

পরে মন্দিরের লোকজন শ্যামানন্দকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত শ্যামানন্দ দাস নড়াইল সদর উপজেলার মুসুরিয়া গ্রামের কিরণ সরকারের ছেলে।

এলাকাবাসী জানান, শ্যামানন্দ দাস পরিবার ত্যাগ করে বৈষ্ণব ধর্মে দীক্ষা নিয়ে মন্দিরে মন্দিরে পূজা-অর্চনার কাজ করে বেড়াতেন।

বছর চারেক আগে তিনি ঝিনাইদহে এসে সদর উপজেলার উত্তর কাস্ট সাগরা গ্রামের শ্রী শ্রী রাধামদন গোপাল মঠ মন্দিরের সেবায়েতের দায়িত্ব নেন। তাকে এলাকার মানুষ বাবাজি বলে ডাকতেন। তিনি খুব ভালো মানুষ ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত প্রায় দুই বছর ধরে বাংলাদেশে একাধিক সমমনা ব্লগার, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, লেখক, প্রকাশক, ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও ভিন্নমতাবলম্বীকে এভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

এসব ঘটনার পর প্রায় সবকটিতেই দায় স্বীকার করে বিবৃতি এসেছে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের নামে; যার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটও (আইএস) রয়েছে।

তবে দেশে আইএসের কোনো অস্তিত্ব নেই বলে আশ্বস্ত করে আসছে সরকার। এসব ঘটনার জন্য দেশীয় বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনইকেই দায়ী করা হচ্ছে।

শুক্রবারের এই ঘটনার সঙ্গে আগের হত্যাকাণ্ডগুলোর কোনো সম্পৃক্ততা আছে কিনা তাৎক্ষণিকভাবে তা স্পষ্ট নয়।

এরআগে ৭ জুন ঝিনাইদহ জেলা সদরের করাতিপাড়া গ্রামের পুরোহিত আনন্দ গোপাল গাঙ্গুলীকে কুপিয়ে ও গলাকেটে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় গ্রেফতার এনামুল হক নামে একজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।

এদিকে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার তেঁতুলবাড়িয়া এলাকায় পুলিশের কথিত বন্দুকযুদ্ধে দুইজন শিবির নেতা নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে বলে দাবি পুলিশের।

এসএম