কামরাঙ্গির চরের গৃহবধূ নার্গিস মাত্র তিন মাস আগে প্রতিবেশী প্রতিবন্ধী মেহেদি হাসানের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। অল্প সময়ে তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরই মধ্যে মেহেদি তার তিন বন্ধু মিলে বুদ্ধি করে ওই গৃহবধূর সঙ্গে একইসাথে বিকৃত যৌনাচারে লিপ্ত হওয়ার জন্য।
কিন্তু ওই গৃহবধূ প্রেমিক মেহেদির কথায় রাজি না হওয়ায় তারা তিনজন মিলে ওই গৃহবধূর মুখমন্ডলসহ মাথায় স্কচটেপ দিয়ে পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। তিন বন্ধু হলেন, মেহেদি হাসান(২৫), মো. পারভেজ(২৪) এবং ফারুক ইসলাম(৩০)।
সোমবার ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম শাখায় তিন আসামিকে হাজির করা হলে মেহেদি হাসান রাইজিংবিডিকে হত্যার ঘটনা খুলে বলেন।
এ সময় তিনি আরো বলেন, শারীরিক সম্পর্কের সময় এক পর্যায়ে নার্গিস রাজিও হয়। কিন্তু ফারুক ভিডিও করতে গেলে নার্গিস বাধা দেয়। এ সময় তার মুখমন্ডল ও মাথা স্কচটেপ দিয়ে পেঁচানো হয়। এ ছাড়া হাত ও পা বেঁধে ফেলা হয়। পরে নার্গিস মারা গেছে এই মনে করে তার হাতের আংটি ও স্বর্ণের চেইন খুলে তিনজনই পালিয়ে যায়।
আপনি তো প্রতিবন্ধী। নার্গিসের সঙ্গে কিভাবে প্রেমের সম্পর্ক হলো জানতে চাইলে মেহেদি বলেন, নার্গিসের স্বামী ইব্রাহীম মোল্লা নীলক্ষেত এলাকায় একটি ফটোকপির দোকানে কাজ করেন। সকালে যায় রাতে আসে। নার্গিস দেখতে খুবই সুন্দরী ছিল। নার্গিসদের বাসার পাশেই ভাড়া থাকতাম। আর তার পাশেই একটি এম্ব্রয়ডারি কারখানায় কাজ করতাম। একদিন প্রস্তাব দিলাম। কিন্তু রাজি হয়নি। এরপর সেই ফোন করে গল্প করার জন্য বাসায় ডাকে।এ ভাবেই সম্পর্ক হয়।
এ বিষয়ে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লালবাগ বিভাগের উপ কমিশনার মফিজ উদ্দিন আহমেদ জানান, গত ২৮ ডিসেম্বর নার্গিস বিকৃত যৌনকর্মে রাজি না হওয়ায় প্রেমিক মেহেদিসহ তিন বন্ধু মিলে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর নার্গিসের ব্যবহৃত মোবাইল, স্বর্ণের আংটি ও চেইন নিয়ে পালিয়ে যায়। ওই দিন নার্গিসের ভাই জাহাঙ্গীর হোসেন সবুজ বাদী হয়ে কামরাঙ্গির চর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় নার্গিসের স্বামী ইব্রাহীম মোল্লা ও তার ভাই কামাল মোল্লা ও হেলাল মোল্লাকে আসামি করা হয়। কিন্তু তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের পর জানা যায়, তারা কোনো দোষ করেন নি।
মফিজ উদ্দিন আরো বলেন, এরপর পুলিশ তদন্তে নামে। তদন্তে মেহেদিদের নাম বেরিয়ে আসে। পরে ফারুককে কুমিল্লা, মেহেদিকে রাজধানীর কামরাঙ্গির চর এবং পারভেজকে মাদারীপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১টি মোবাইল ফোন, ৩টি মুখোশ (মানকি টুপি), ২ টি স্বর্ণের চেইন এবং ১ টি স্বর্ণের আংটি উদ্ধার করা হয়। আসামিদের আদালতে পাঠানো হবে।
এমএম





