শিশুটির বয়স ১২ বছরের কিছু বেশি। কৈশোরের দুয়ারে দাঁড়ানো এই শিশুটির এখন মুক্ত বাতাসে হেসেখেলে বেড়ানোর কথা।

কিন্তু সে চুরির মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কাটাচ্ছে বন্দী জীবন। মামলাটি করেছেন তারই জন্মদাত্রী মা।


ঢাকার মহানগর হাকিম আদালতে করা মামলার এজাহারে দেখা যায়, শিশুটির বাবা তার মাকে তালাক দিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। এর পর থেকে সে মায়ের কাছে থেকে মানুষ হচ্ছিল।

তাদের বাসা খিলগাঁও বাসাবোতে। মা পোশাক কারখানার কর্মী। শিশুটির বিরুদ্ধে তার মা আদালতে বলেছেন, সে দাঙ্গাবাজ ও মাস্তান।


গত বছর ২৭ আগস্ট তার মায়ের সোনার চেইন ও কানের দুল চুরি করে বিক্রি করেছে। মাকে মারধর করেছে। হত্যার হুমকিও দিয়েছে। এ কারণে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।


এসব অভিযোগ এনে শিশুটির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেন শিশুটির মায়ের আইনজীবী মোজাম্মেল হক।


ঢাকার মহানগর হাকিম কায়সারুল ইসলাম শিশুটির মায়ের করা মামলা আমলে নিয়ে তার বিরুদ্ধে সমন জারি করেন।


এরপর আদালতে হাজির না হলে ওই শিশুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। খিলগাঁও থানার পুলিশ শিশুটিকে গত বছরের ৭ নভেম্বর গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করে। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।


পরবর্তী সময়ে মামলাটি ঢাকার শিশু আদালতে স্থানান্তর হলে শিশুটিকে টঙ্গীর কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়। এখন সেখানেই আছে সে।


গত বৃহস্পতিবার ঢাকার শিশু আদালতে হাজিরা দিতে এসে শিশুটি বলে, ‘আমার নিজের মা মিথ্যা চুরির মামলা দিয়ে আমাকে কারাগারে রেখেছে। আমি মুক্ত হতে চাই।’
এ ব্যাপারে শিশুর মায়ের আইনজীবী মোজাম্মেল হক পাঠান বলেন, ‘শিশুটিকে আমি দেখিনি। তার মা বলেছে, শিশুটির চুরির অভ্যাস রয়েছে।’


জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির নির্বাহী পরিচালক সালমা আলী বলেন, এটা খুব দুঃজনক ঘটনা। কোনো শিশুকে আসামি বলা যাবে না। শিশু আইন অনুযায়ী, বলতে হবে, অপরাধের সংস্পর্শে আসা শিশু।


এ শিশুর আইনগত সহায়তা দেবে আমাদের সংগঠন। তাকে জামিনে মুক্ত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব শিগগিরই। নথিতে দেখা গেছে, শিশুটির বিরুদ্ধে আদালত থেকে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানায়ও শিশুটিকে আসামি বলা হয়েছে।


ঢাকার শিশু আদালতের পেশকার নূর আলম বলেন, মামলাটি এখন অভিযোগ গঠনের শুনানির পর্যায়ে রয়েছে। সূত্র: প্রথম আলো।


ওএফ