ঈদকে সামনে রেখে বেনাপোল-যশোর সড়কে চলছে পুলিশের বেপরোয়া চাঁদাবাজি। ঝিকরগাছা থানা পুলিশ ও নাভারণ হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি প্রতিদিন সকাল থেকে রাত অবধি ঝিকরগাছার বেনেয়ালি, বালিখোলা, নাভারনের আকিজ কলেজিয়েট স্কুলের সামনে, কলাগাছি নবীনগর ও লাউজানি রেলক্রসিং এলাকায় অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে বেপরোয়া চাঁদাবাজি শুরু করেছে।

সড়কপথে বেনাপোল ও সাতক্ষীরা থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, ফরিদপুর ও খুলনা ও যশোরের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া এ অঞ্চলের বিভিন্ন যানবাহন ও ভারতীয় গরুর ট্রাক থামিয়ে তল্লাশির নামে মোটা অঙ্কের উেকাচ আদায় করা হচ্ছে। এছাড়া ভারত থেকে আসা পাসপোর্ট যাত্রীদের সঙ্গে আনা মালামাল আটকে আদায় করছে হাজার হাজার টাকা।

ভারতফেরত পাসপোর্ট যাত্রী নারায়ণগঞ্জের নিতিশ চক্রবর্তী জানান, লাউজানি চেকপোস্টে তার কাছ থেকে ১০০ মার্কিন ডলার জোর করে ছিনিয়ে নিয়েছে পুলিশ। তাছাড়া টেকেরহাটের পাসপোর্ট যাত্রী মিয়া রাজের ব্যাগ তল্লাশি করে ৫ হাজার, লিটন ঘোষের ৬ হাজার, ঢাকার শাঁখারীবাজারের ময়না বেগমের ১২শ, রামপুরার মিলি বেগমের ২০০ এবং লালবাগের রোকসানা বেগমের কাছ থেকে ২৫০০ টাকা নিয়েছে পুলিশ।

তাদের অপরাধ তারা বৈধপথে ভারত থেকে আসার সময় নিজেদের ব্যবহার করার জন্য কিছু জিনিসপত্র কিনে নিয়ে আসছিল; যা বৈধ পাসপোর্ট যাত্রীর ব্যাগেজ রুলে অনুমোদিত। কিন্তু পুলিশ ব্যাগেজ রুল না মেনে যাত্রীদের নানাভাবে হয়রানি করে অর্থ আদায় করছে। তাদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন না রোগী, শিক্ষক কিংবা ছাত্ররাও।

এখন হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির নজর ভারতীয় গরু ও পণ্যবোঝাই ট্রাকের দিকে। ট্রাক ড্রাইভার তরিকুল ইসলাম জানান, পুটখালী সীমান্ত থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত রাস্তায় পুলিশকে গাড়িপ্রতি ১০০০ থেকে ২০০০ টাকা দিতে হয়। এর ফলে যাত্রীসাধারণকে পড়তে হচ্ছে নানা হয়রানিতে।

থানা ও হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির প্রায় অর্ধেক পুলিশ কর্মকর্তা ও কনস্টেবল প্রতিদিন অন্য ডিউটি বাদ দিয়ে বাস-ট্রাক তল্লাশির জন্য চেকপোস্ট বসিয়ে এ কাজে ব্যস্ত থাকে। আর তাদের সঙ্গে থাকে দালালরা।

অবৈধ তল্লাশি থেকে পাওয়া অর্থ ঊর্ধ্বতন মহল পর্যন্ত যাওয়ায় তারা বিষয়টিতে নীরব ভূমিকা পালন করে থাকেন। এসব তল্লাশি থেকে ফেনসিডিল, শাড়িসহ অবৈধ মালামাল আটক করা হলেও তা কখনও থানায় জমা দেয়া হয় না।

বেনাপোল থেকে যশোর ৩৮ কিলোমিটার সড়কের আমড়াখালি নামক স্থানে বিজিবি, এরপর ঝিকরগাছা থানা পুলিশ তল্লাশি চালায় সড়কের বিভিন্ন স্থানে। থানা পুলিশের পাশাপাশি নাভারণ হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরাও ফাঁড়ি থেকে গদখালি সড়কের বিভিন্ন স্থানে গরু ও আমদানিকৃত পণ্যবোঝাই যানবাহন থামিয়ে কাগজপত্র দেখার নাম করে ১শ থেকে ৫শ টাকা আদায় করছে। এ নিয়ে ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে প্রায়ই পরিবহন শ্রমিকদের কথা কাটাকাটি ও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে।

হাইওয়ে সড়কে পুলিশের চাঁদাবাজি বন্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ সত্ত্বেও পরিস্থিতির বিন্দুমাত্র পরিবর্তন ঘটেনি। উপরন্তু কেউ উতকাচ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে নানা হয়রানির শিকার হতে হয়। এমনকি মামলায় জড়ানোরও হুমকি দেয়া হয়।

ঝিকরগাছা থানার ওসি মোশাররফ হোসেন জানান, অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য উদ্ধারে পুলিশের এ তল্লাশি। কোনো যাত্রী হয়রানির শিকার হয়ে অভিযোগ জানালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ঢাকা, ১৪ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই