ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ছাত্র জালাল আহমেদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। ‘সরকার উৎখাতের  গোপন ষড়যন্ত্র’-এর অভিযোগে এ রিমান্ড দেয়া হয় বলে জানা যায়।

রোববার মহানগর হাকিম আনোয়ার সাদাত এর আদালত ওই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

জানা যায়, গত ৯ আগস্ট বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর ফটক থেকে জালাল আহমেদকে সন্দেহজনকভাবে (৫৪ ধারায়) গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

ডিবি সূত্র জানায়, তার কাছে ‘সহিংস আন্দোলনের মাস্টার প্ল্যান’ নামে ২৪ পাতার একটি খসড়া বই পাওয়া যায়। পল্টন থানায় তার বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ডে নেয় ডিবি। এরপর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে ৪ অক্টোবর পল্টন থানায় রাষ্ট্রদ্রোহের মামলাটি করেন ডিবির উপ-পরিদর্শক মিজানুর রহমান।

ওই মামলায় জালালকে  গ্রেফতার দেখিয়ে গত ১৩ অক্টোবর মহানগর হাকিম রেজাউল করিমের আদালতে ১০ দিনের রিমান্ড চায় ডিবি। আদালত ১৯ অক্টোবর রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করেন।

ডিবি সূত্র জানায়, রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। তাই আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময় লাগায় গ্রেপ্তারের প্রায় দুই মাস পরে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করা হলো।

এজাহারে মো. আশিক নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক ছাত্রের নামও রয়েছে। অবশ্য আসামির তালিকায় তার নাম নেই।

জালালের পরিচিত কয়েকজন জানান, জালাল ও আশিক ইসলামী ছাত্রশিবিরের সঙ্গে যুক্ত। তাদের মধ্যে জালাল টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র অধ্যয়ন বিভাগের ছাত্র। তিনি হাজি মুহাম্মদ মুহসীন হলে থাকতেন। আর আশিক ইংরেজি বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র। তিনি সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের আবাসিক ছাত্র।

এজাহারে বলা হয়, ৯ আগস্ট রাত সাড়ে আটটার দিকে বায়তুল মোকাররমের উত্তর ফটক থেকে জালালকে আটক করা হয়। তার শরীর তল্লাশি করে ‘সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী আন্দোলনের মাস্টার প্ল্যান’ শিরোনামে ২৪ পাতার একটি খসড়া বই পাওয়া যায়। কম্পিউটার কম্পোজের পাশে হাতে লেখা কিছু সংশোধনী ছিল ওই খসড়া বইতে।

জিজ্ঞাসাবাদে জালাল জানান, আশিক নামে ইংরেজি বিভাগের এক ছাত্র তাকে ওই খসড়া বই দিয়েছেন। ‘একটি নির্বাচিত সরকারকে উৎখাতের জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের নিয়ে সহিংস দল গঠনের মাধ্যমে সহিংস আন্দোলনের মাস্টার প্ল্যান তৈরি’ করে জালাল রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধ করেছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, মুহসীন হলের ৪-ক নম্বর কক্ষে থাকতেন জালাল। তিনি গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার বন্ধুরা চলচ্চিত্র অধ্যয়ন বিভাগে যোগাযোগ করে তার পরিবারের মুঠোফোন নম্বর সংগ্রহের চেষ্টা করেন। বন্ধুরা জানান, তার ভর্তিসংক্রান্ত কাগজপত্রে তিনটি মুঠোফোন নম্বর দেওয়া থাকলেও যোগাযোগের চেষ্টা করে তিনটিই বন্ধ পান তারা। তার গ্রামের বাড়ি কক্সবাজারের পেকুয়ায়। বাবা মারা গেছেন।

জালালের আইনজীবী সৈয়দ মো. জয়নুল আবেদীন মেসবাহ বলেন, জালাল প্রথম বর্ষের ছাত্র। ঢাকায় নতুন। তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তেমন কিছু করা তার পক্ষে অনেকটা অসম্ভব। তিনি ঘটনার শিকার হয়েছেন।

এসএইচ