ভিআইপ, সিআইপি, সাবেক ও বর্তমান মন্ত্রী এবং এমপিসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচারের তথ্য উপাত্ত চেয়ে অ্যাটর্নী জেনারেলের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে এমএলএআর পাঠিয়ে দুদক।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে দুর্নীতি দমন কমিশনের(দুদক) মিডিয়া সেন্টারে মাসিক সংবাদ সম্মেলনে দুদক সচিব মো. মাকসুদুল হাসান খান এ তথ্য জানান। তবে ওই ১৪ ব্যাক্তির নাম প্রকাশে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন।

এক প্রশ্নের জবাবে দুদক সচিব বলেন, আরো ১৬ সচিবের বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা সনদ জালিয়াতির অভিযোগের তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ শুরু করেছে দুদক। সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে ওই ১৬ সচিবের সনদ জালিয়াতি এবং নানা সুযোগ সুবিধা নেয়া সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ওই প্রতিবেদনকে সামনে রেখেই অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়া হবে ।

তিনি বলেন, অনুসন্ধানের পর সনদ জালিয়াতির তথ্য প্রমাণ পেলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে মামলা এবং চার্জশিট পর্যন্ত  দুদকের কাজ।

অভিযোগ রয়েছে, এ ১৬ কর্মকর্তার কউই নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা ঘোষণা না করলেও সনদ নিয়েছেন।  কেউ কেউ এখন সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করছেন।

এর আগে ৫ সচিব একইভাবে সনদ নিয়েছিল। পরে তাঁদের মধ্যে ৪ জনের সনদ বাতিল করা হয়।

এ ১৬ সচিব হলেন কৃষিসচিব এস এম নাজমুল ইসলাম, প্রবাসী ও কর্মসংস্থান সচিব খোন্দকার শওকত  হোসেন, পরিকল্পনা বিভাগের সচিব ভূঁইয়া সফিকুল ইসলাম, প্রাথমিক ও গণশিক্ষাসচিব কাজী আখতার  হোসেন, ওএসডি সচিব নুরুল হক, সাবেক সচিব ও বিটিআরসির চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বোস, রাজউকের চেয়ারারম্যান জি এম জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়া, ভিয়েতনামের রাষ্ট্রদূত সাহাব উল্লাহ, পিএসসির সদস্য মাইন উদ্দিন খন্দকার, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য সচিব শেখ মোহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান, সদ্য অবসরে যাওয়া সচিব ফণীভূষণ চৌধুরী, সাবেক জনপ্রশাসন সচিব এ এস এম আলী কবীর, সাবেক মুক্তিযুদ্ধ সচিব ফিরোজ কিবরিয়া, ট্যারিফ কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান এ কে এম আজিজুল হক, তথ্য মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব খলিলুর রহমান ও ক্যাডার বহির্ভূত সাবেক কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবুল হোসাইন।

নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা  ঘোষণা না করলেও এই কর্মকর্তাদের  কেউ  কেউ সনদ নিয়ে অতিরিক্ত এক বছর চাকরি করেছেন বা করছেন।  আবার কেউ কেউ অবসরে যাওয়ার এক বা দুই বছর আগে এ সুবিধা নিয়েছেন।

যাচাই-বাছাই করে ভুল তথ্য পাওয়া  গেলে ২০১০, ২০১১ ও ২০১৪ সালে জারি করা প্রজ্ঞাপনের আলোকে সনদ বাতিল করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া নেয়ার বিধান রয়েছে।

একে/জেএ/এএইচ