ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেছেন, গুলশানে ইতালীয় নাগরিক তাবেলা সিজার হত্যার পরিকল্পনাকারী ও মূল হোতারা শনাক্ত হয়েছে। এখন এদের ব্যাপারে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে।

রোববার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে আছাদুজ্জামান এ কথা বলেন।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, এখন পর্যন্ত যে তদন্ত হয়েছে তাতে জঙ্গি সম্পৃক্ততার ন্যূনতম প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এটি একটি পরিক​ল্পিত ষড়যন্ত্র। এর সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্ক আছে কি না সেটিও এখন বলা যাবে না।

তিনি বলেন, ইতিমধেই এ ষড়যন্ত্রের মূলহোতা ও পরিকল্পনাকারীসহ (মাস্টার মাইন্ড) খুনিদের আমরা সনাক্ত করেছি। এখন শুধু সাক্ষ্য-প্রমাণের সমন্বয়ের কাজ চলছে। আশা করছি, শিগগিরই তাদেরকে আটক করে জনসম্মুখে হাজির করতে পারব। তবে এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এখনো কোনো জঙ্গি গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি।

ইতোমধ্যে হত্যাকাণ্ডের দুই সপ্তাহ পার হয়েছে এ মুহূর্তে মামলার অগ্রগতি কি জানতে চাইলে আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘সময়সীমা বেধে দিয়ে মামলার তদন্ত কাজ করা যায় না। কোনো তদন্তে ৭ ঘণ্টা লাগতে পারে, কোনোটায় ৭দিন আবারও কোনোটায় ৭ বছরও সময় লাগে। তবে আমাদের উল্লেখযোগ্য সাফল্য রয়েছে। তদন্তস্বার্থে সেগুলো আমরা প্রকাশ করছি না।’

সরকারের নির্দেশে একটি বিশেষ মহলকে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে- এ বিষয়ে কমিশনারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ পেশাদার বাহিনী। আমরা তথ্য-প্রমাণ ও আইনের বাইরে কোনো কাজ করি না। আমাদের উপর আস্থা রাখুন খুব তাড়াতাড়ি আপনাদের সামনে অপরাধীদের হাজির করবো।’

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের আবারও সতর্ককরার বিষয়ে কমিশনার বলেন, ‘এটা তাদের রুটিন কাজ। শুধু বাংলাদেশ নয়, তারা বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত নাগরিককে সকর্ত করে বার্তা পাঠায়

জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের জবাবে কমিশনার বলেন, ‘আটক বা গ্রেপ্তারের ব্যাপারে এখন কিছু বলা যাবে না। কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হলে গণমাধ্যমকে তা জানানো হবে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ সেপ্টেম্বর গুলশান-২ এর ৯০ নম্বর সড়কে ইতালীয় নাগরিক তাবেলাকে দুর্বৃত্তরা হত্যা করে। তাবেলার শরীরে মোট তিনটি গুলি করে দুর্বৃত্তরা।

এমআর/কেবি