হত্যার হুমকি পাওয়ার পর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গিয়েছিলেন তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।
ওসির সামনে বসে থাকা অবস্থায় ফের মোবাইলে ক্ষুদেবার্তার মাধ্যমে তাকে হত্যার হুমকি দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
প্রথমবার হত্যার হুমকিতে কিছুটা শালীনতা থাকলেও পরেরবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অধ্যাপককে 'কুপিয়ে হত্যার' হুমকি দেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ তার ফেসবুকে লিখেছেন, 'রামপুরা থানায় বসে জিডি করছিলাম। ওসি (তদন্ত) সাহেব সামনেই ছিলেন। এই সময়েই রাত ৮টা ৪৩ মিনিটে একই নম্বর (01629967551) থেকে আরেকটি এসএমএস পেলাম। হুবহু: 'Say 'yes' to Rampal, otherwise you must will be hacked to death incredibly by us!' (রামপালকে 'হ্যাঁ' বলুন, নইলে আমরা আপনাকে কুপিয়ে হত্যা করব!)।'
হুমকির বিষয়ে তিনি লিখেছেন, 'যারা আতংক তৈরি করতে চায়, মানুষকে নীরব ও নিষ্ক্রিয় করতে চায়, যারা যুক্তিতে হেরে শক্তির পথ ধরে তারা নৈতিকভাবে পরাজিত, তাদের সঠিক জবাব, সবাই মিলে আরো সরব হওয়া, আরো সক্রিয় হওয়া।'
আনু মুহাম্মদের স্ট্যাটাসে উল্লিখিত নম্বরটিতে ফোন দিলে সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে।
এরআগে বুধবার দিনগত রাত ১টার দিকে একই নম্বর থেকে ক্ষুদেবার্তার মাধ্যমে আনু মুহাম্মদকে হত্যার হুমকি দিয়ে বলা হয়, 'Death keeps no calendar, and Ansatullah knows no time!'
সেটিও ফেসবুকের মাধ্যমে জানিয়ে আনু মুহাম্মদ বলেন, 'সমাজে যারা প্রশ্ন তোলার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করছে, এ কাজ তারাই করতে পারে বলে আমার ধারণা।'
রামপুরা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী শাহান হক জানান, এ বিষয়ে থানায় একটি জিডি করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আনু মুহাম্মদকে হত্যার হুমকি দেয়ায় ইতিমধ্যে ফেসবুকে নিন্দা ঝড় ওঠেছে। অনেকে তাকে আইনি সহায়তা নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ সুন্দরবনের রামপালে কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের বিরোধিতা করে আসছেন। এছাড়া দেশীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রতিবাদী স্বর হিসেবে সমাদৃত তিনি।
এসএম





