“পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদের লিখিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করে তিন লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করতো চক্রটি” এমনটিই বলছিলেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম।
গত শনিবার এবং রবিবার রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের ৭ জনকে গ্রেফতারের ব্যাপারে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
গ্রেফতার কৃতরা হলেন, মো. নিয়ামুল হাসান ওরফে সৈকত, মো. হারুন অর রশিদ, মো. দেলোয়ার হোসেন, মো. রমযান আলী, মো. রুবেল আহম্মেদ, মো. জসিম সিকদার ওরফে রানা ও মো. আকবর হোসেন।
গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) সিভিল পরীক্ষার হুবহু প্রশ্নপত্র, উত্তরপত্র, পরীক্ষার প্রবেশপত্রসহ পঞ্চাশ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
তিনি বলেন, মো. জসিম সিকদার ওরফে রানা এই চক্রের মূল হোতা মো. দেলোয়ার হোসেনের কাছ থেকে সর্বনিম্ন দুই লক্ষ টাকায় প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করে তা সর্বনিম্ন তিন লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করে।
যুগ্ম কমিশনার বলেন, মো. জসিম সিকদার ওরফে রানা একজন সরকারি কর্মকর্তা। তিনি ডাক বিভাগে কর্মকর্তা। মো. আকবর হোসেন পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) এমএলএসএস পদে কর্মরত। এই দুজনই এই চক্রের প্রধান। এদের সহায়ক মো. নিয়ামুল হাসান ওরফে সৈকত, মো. হারুন অর রশিদ ও মো. দেলোয়ার হোসেন ভূয়া পরিক্ষার্থী হিসেবে পরীক্ষা দিত।
মনিরুল ইসলাম বলেন, এই তিন ভূয়া পরিক্ষার্থীদেরকে শনিবার দুপুর ২টার দিকে শেরেবাংলা নগর বালক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে গ্রেফতার করে। তাদের দেওয়া তথ্য মতে প্রকৃত পরিক্ষার্থী মো. রুবেল আহম্মেদ ও প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত রমযান আলীকে বিকেল ৫টার দিকে কল্যাণপুরের ওয়েস্ট পয়েন্ট হোটেল থেকে গ্রেফতার করা হয়।
মনিরুল ইসলাম আরো বলেন, রমযান আলীর দেওয়া তথ্য মতে রাজধানীর বাংলামটর এলাকা থেকে মো. জসিম সিকদার ওরফে রানাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যমতে এই চক্রের মূল হোতা মো. আকবর হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়।
তাদের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে তিনি বলেন, চক্রটির মূল হোতা মো. আকবর হোসেনের আরও একজন সহযোগী মো. বিল্লাল হোসেন পালাতক রয়েছে। সে চট্টগ্রাম অঞ্চলের পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) এমএলএসএস পদে কর্মরত।
এছাড়াও এই চক্রটির সাথে আরও কয়েকজন জড়িত রয়েছে তাদের গ্রেফতারের ব্যাপারে আমাদের অভিযান অব্যহত আছে বলেও জানান তিনি।
এমআর/এআই





