মুক্তিযোদ্ধার সনদ জালিয়াতির অভিযোগে  এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলসহ ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ গ্রহনকারী ও মুক্তিযোদ্ধা  কেন্দ্রিয় কমান্ড কাউন্সিলের ৩ নেতাকে তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক।

বুধবার দুদকের উপপরিচালক ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারীর তলবি নোটিশে আগামী  ২৩ অক্টোবর  এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী ও মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়াহিদুর রহমান। আর  ২১ অক্টোবর মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রী কমান্ড কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান এস.এম. মর্তুজা হোসেন এবং সদস্য মাহবুবুল হক চিশতিকে সকাল ১০ টায় দুদক কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়েছে।

দুদকে অভিযোগ রয়েছে, ওয়াহিদুর রহমান চাকরিতে যোগদানের সময় নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ঘোষণা দেননি। মুক্তিবার্তার লাল বইয়ে তার নাম নেই। তিনি কোন ট্রেনিং ক্যাম্পে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেছেন, কোন সেক্টরে কোন অধিনায়ক বা কমান্ডারের অধীনে যুদ্ধ করেছেন, এ সম্পর্কিত কোনো প্রমাণাদিও নেই।

দুদক সূত্র জানায়, চাকরিতে প্রবেশকালে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ঘোষণা না দিলেও চাকরির শেষ সময় মুক্তিযোদ্ধা’র সনদ ব্যবহার করে ওয়াহিদুর রহমান চাকরির মেয়াদ ২ বছর বৃদ্ধি করেছেন।

 অভিযোগে  দুদক প্রকৌশলী ওয়াহিদর রহমানের বিরুদ্ধে  অনুসন্ধান শুরু করেছে। অনুসন্ধান প্রক্রিয়ায় ইতিমধ্যেই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা), স্থানীয় থানা কমান্ড, মুক্তিযুদ্ধ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল থেকে নথিপত্র সংগ্রহ করেছে দুদক। অনুসন্ধানের শেষ পর্যায়ে ওয়াহিদুর রহমান এবং তাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সুপারিশকারী দুই মুক্তিযোদ্ধা নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে।

এদিকে দুদক উপ-পরিচালক মোঃ জুলফিকার আলীকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা পুলিশের অতিরিক্ত আইজি হেমায়েত হোসেনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে এ পুলিশ কর্মকর্তা ১৯৬০ সালে মে মাসে শরীয়তপুরে জম্ম গ্রহন করেন। মুক্তিযুদ্ধকালে তার বয়স সোয়া ১০ বছর। অর্থাৎ ১৯৭১ সালে তৎকালীন বালক যুদ্ধ না করেও পরবর্তীতে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সনদ সংগ্রহ করেছেন। শুধু তাইনয় মুক্তিোযাদ্ধা হিসেবে ওই ওই সনদ ব্যবহার করে চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধির সুযোগ কাজে লাগিয়েছেন। দুদক এ বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে।

তবে সম্প্রতি মুক্তিযোদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন, একাত্তরে ১৫ বছরের উপরের ব্যাক্তিরা মুক্তিযোদ্ধা। আর এর নিচের সবাই বয়সের মাপকাঠিতেই ভুয়া।একইসঙ্গে অন্যান্য ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের সনদ বাতিলসহ তাদের বিরুদ্ধেো আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। আগামী  ডিসেম্বরে  মুক্তিযোদ্ধাদের পূনাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হবে।

একে,