[b]বিচারক নাজমুন আরা সুলতানা[/b]
নাজমুন আরা সুলতানা দেশের প্রথম নারী বিচারক। সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রীমকোর্টের হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগেরও প্রথম নারী বিচারক নেতৃত্ব পেলেন।
একইসঙ্গে আপিলে কোনো বেঞ্চের নেতৃত্বে থাকা প্রথম নারী বিচারক তিনি। তার নেতৃত্বে আপিলের বিচারক মো. ইমান আলী, বিচারক মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক ও বিচারক হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।
বর্তমান প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন অবসরে যাওয়ার আড়াই বছর পর ২০১৭ সালের ৮ জুলাই অবসরে যাবেন দেশের প্রথম নারী বিচারক নাজমুন আরা সুলতানা।
নাজমুন আরা সুলতানা ১৯৫০ সালের ৮ জুলাই মৌলভীবাজারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম মরহুম চৌধুরী আবুল কাশেম মইনুদ্দিন। মায়ের নাম মরহুমা বেগম রাশিদা সুলতান দ্বীন।
তিনি ময়মনসিংহের বিদ্যাময়ী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৬৫ সালে মেট্রিকুলেশন, ১৯৬৭ সালে মুমিনুন্নেসা উইমেন্স কলেজ থেকে আইএ পাশ করেন। তিনি ১৯৬৯ সালে আনন্দ মোহন কলেজ থেকে বিএসসি ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর ময়মনসিংহল ল’ কলেজে থেকে ১৯৭২ সালে এলএলবি ডিগ্রি নেন।
১৯৭৫ সালের আগে বিচার বিভাগে কোন নারীর চাকরির সুযোগ ছিল না। নাজমুন আরা সুলতানাই প্রথম ১৯৭৫ সালের ২০ ডিসেম্বর সহকারি জজ হিসেবে নিয়োগ পান। তিনিই দেশের প্রথম নারী বিচারক। নিম্ন আদালত থেকে ধীরে ধীরে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে তিনি পা রেখেছেন।
১৯৯০ সালের ২০ ডিসেম্বর তিনি জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন। ২০০০ সালের ২৮ মে হাইকোর্টে অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিযুক্ত হন। এরপর ২০০২ সালে তিনি হাইকোর্টের পূর্ণ বিচারক পদে নিয়োগ পান। আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসাবে ২০১১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি তিনি শপথ গ্রহণ করেন।
সেনানিবাসে খালেদা জিয়ার বাড়ি নিয়ে মামলা, বিএনপির আমলে বাদ পড়া ১০ বিচারপতির মামলা, আপিল বিভাগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মামলাতেও তিনি বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন।
এছাড়া তিনি আন্তর্জাতিক নারী আইনজীবী সংস্থায় দুই বার সদস্য সচিব নিযুক্ত হন।
তিনি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সম্মেলনে ভারত, নেপাল, থাইলেন্ড, ইতালী, জাপান, আমেরিকা, ইরান, ইরাক, ইংলেন্ড সফর করন।
[b]বিচারক সালমা মাসুদ চৌধুরী[/b]
আপিল বিভাগের মতো হাইকোর্ট বিভাগেও পিছিয়ে নেই নারী বিচারকরা। হাইকোর্টের বিচারক সালমা মাসুদ চৌধুরী তাদের এক জন।
সাবেক বিচারপতি এটিএম মাসুদ ও আমিনুন নেসার বড় সন্তান তিনি। ১৯৫৭ সালের ১৩ ডিসেম্বর তিনি জন্ম গ্রহণ করেন।
১৯৮১ সালের ২২ আগস্ট বিচারক সালমা মাসুদ চৌধুরী ঢাকা জেলা জজ আদালতে আইন পেশায় আত্মনিয়োগ করেন। ১৯৮৩ সালের ২১ সেপ্টেম্বর তিনি হাইকোর্টের আইনজীবী হন। এরপর তিনি ১৯৯৬ সালের ১৪ মে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে আইনজীবী হিসাবে তালিকা ভূক্ত হন।
সাফল্যের ধারাবাহিকতায় ২০০২ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারিতে বিচারক সালমা মাসুদ চৌধুরী হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারক নিযুক্ত হন। এর দুই বছর পর তিনি হাইকোর্টের পূর্ণ বিচারক পদে নিয়োগ পান।
সালমা মাসুদ চৌধুরী আইন চর্চা জন্য কমনওয়েলথ সচিবালয় কর্তৃক আয়োজিত মালেশিয়ার কুয়লালামপুরে আইনসভা বিষয়ক ড্রাফটিং কোর্স করেন। পাকিস্তানের লাহোরে আন্তর্জাতিক নারী আইনজীবী সম্মেলনে তিনি তার লেখা ‘ মুসলিম পরিবারিক আইন ও বাংলাদেশে নারী’ শিরনামের গবেষণা পত্র উপস্থাপন করেন।
বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে ২৩তম আন্তর্জাতিক নারী আইনজীবী সংস্থা কর্তৃক আয়োজিত সম্মেলনে ‘ড্রাগ অ্যাবিউস এন্ড রেমিডিয়াল মেজার্স ইন বাংলাদেশ এ রিপোর্ট’ উপস্থাপন করেন। এই রিপোর্ট তিনি কেনিয়ায় উপস্থাপন করেন।
বিচারক হওয়ার পর সরকারি উদ্যোগে তিনি ‘ইসলাম ও নারী’ শূর্ষক সম্মেলনে মালেশিয়ার কুয়ালালামপুর, ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা ও দক্ষিণ এশিয়ার ইসলামি আইনবিদের সম্মেলনে যোগ দেন। আন্তর্জাতিক নারী বিচারক সংস্থা আয়োজিত ‘ইন্ভার্মেন্টাল জাস্টিজ’ শীর্ষক সম্মেলনে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু ও লন্ডনে যোগ দেন তিনি।
বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ হার্ট ফউন্ডেশনের ট্রাস্টি ও নির্বাহী সচিব।
[b]বিচারক জিনাত আরা[/b]
বিচারক জিনাত আরা মরহুম এইচএমআর সিদ্দিকী ও মরহুম বেগম আয়েশা সিদ্দিকীর মেয়ে। তিনি ১৯৫৩ সালের ১৫ মার্চ জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যায় ও স্কুল আব হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন ডিগ্রী লাভ করেন।
তিনি ১৯৭৮ সালের ৩ নভেম্বরে বিচার বিভাগে মুনসেফ হিসেবে চাকরি শুরু করেন। এরপর ১৯৯৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে তিনি পদন্নোতি পন। এর ধারাবাহিকতায় ২০০৩ সালের ২৭ এপ্রিল তিনি হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারক নিযুক্ত হন। ২০০৫ সালের ২৭ এপ্রিলে তিনি হাইকোর্টের পূর্ণ বিচারক পদে নিয়োগ পান।
তিনি আন্তর্জাতিক সেমিনার, ট্রেনিং ও সার্টিফিকেট কোর্সে হার্ডভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন স্কুল, ক্যাব্রজি বিশ্ববিদ্যালয়, চীনের বেইজিং, সাংহাই, আমেরিকা, আর্জেন্টিনা, অস্ট্রিলিয়া, জার্মানি,ভারত, পাকিস্তান, পানামা,ফিলিপাইন,তাইয়ান, শ্রীলংকা ও থাইল্যান্ডে যোগ দেন।
রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে তিনি বেলজিয়াম, ইরাক, কুয়েত, মালেশিয়া, নেদারল্যান্ড, জর্ডান, সিরিয়া,সিঙ্গাপুর ও ইংল্যান্ড সফর করেন।
[b]বিচারক ফারাহ মাহবুব[/b]
বিচারক ফারাহ মাহবুব ২৭ মে ১৯৬৬ সালে জন্ম গ্রহণ করেন। তার বাবার নাম মাহবুবুর রহমান। মায়ের নাম বেগম ফিরোজা বেগম। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ও এলএলএম পাশ করেন।
১৯৯২ সালে তিনি জেলা আদালতে আইনজীবী হিসেবে আইন পেশা শুরু করেন। তিনি ১৯৯৪ সালের ১৫ অক্টোবর হাইকোর্টের এবং ২০০২ সালের ১৫ মে আপিল বিভাগে আইনজীবী হন।
২০০৪ সালের ২৩ আগস্ট তিনি হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারক নিযুক্ত হন। ২০০৬ সালে তিনি হাইকোর্ট বিভাগে পূর্ণ নিয়োগ পান।
তিনি ২০১০ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দেন। এছাড়া ভারত, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, মালেশিয়া, দুবাই, জারমানি ও সৌদি আরাবিয়ায় সফর করেন।
[b]বিচারক নাইমা হাইদার[/b]
বিচার নাঈমা হায়দার সাবেক বিচারক মরহুম বদরুল হায়দার চৌধুরী ও বেগম আনোয়ারা চৌধুরীর মেয়ে। তিনি ১৯৬২ সালের ১৯ মার্চ জন্ম গ্রহণ করেন।
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেন। তিনি কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, সাউদার্ন বিশ্ববিদ্যালয়, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, বার্কেল বিশ্ববিদ্যায়ল ও লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রী লাভ করেন।
তিনি ১৯৮৯ সালে জেলা আদালতে আইন পেশায় যোগ দান করেন। ১৯৯৩ সালে হাইকোর্টে আইনজীবী ও ২০০৪ সালে আপিল বিভাগের আইনজীবী হন।
তিনি ৩০ জুন ২০০৯ সালের ৬ জুন হাইকোর্টের অতিরিক্ত আইনজীবী নিযুক্ত হন। ২০১১ সালের ৬ জুন হাইকোর্টের পূর্ণ বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান।
নাঈমা হায়দার দেশে-বিদেশে অন্তত ২০টি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দেন। এছাড়া তিনি আমেরিকা, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালী, সুইজারল্যান্ড, সৌদি আরাব, নেদারল্যরান্ড, বেলজিয়াম, পর্তুগাল, অস্ট্রিয়া, পোল্যান্ড, তুরস্ক, চায়না, সিংগাপুর, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়, মালেশিয়া, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল ও শ্রীলংকা সফর করেন।
[b]ঢাকা,৮মার্চ, টাইমনিউজবিডি//এসএইচ[/b]
বিচার বিভাগে নারীর অবদান
নাজমুন আরা সুলতানা দেশের প্রথম নারী বিচারক। সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রীমকোর্টের হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগেরও প্রথম নারী বিচারক নেতৃত্ব পেলেন। একইসঙ্গে আপিলে কোনো বেঞ্চের নেতৃত্বে থাকা প্রথম নারী বিচারক তিনি। তার নেতৃত্বে আপিলের বিচারক মো. ইমান আলী, বিচারক মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক ও বিচারক হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী
‘২০ লাখ টাকায় একেকটা ডিলারশিপ বিক্রি করেছে বিএনপির এমপিরা’
যোগ্যতা ও নিয়মনীতি উপেক্ষা করে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার বিনিময়ে সার ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম। তাঁর দাবি, দলীয় নেতাকর্মী ও স্বজনদের ডিলারশিপ দেওয়ার কারণে কৃষকেরা সারসংকটে পড়ছেন। একই সঙ্গে কৃষিপণ্যের বাজারে সিন্ডিকেটের প্রভাবের অভিযোগ তুলে ক্ষমতাসীনদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
জুলাইয়ের চেতনা ভুলে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করছে বিএনপি: সাদিক কায়েম
জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনাকে পাশ কাটিয়ে বর্তমান বিএনপি সরকার আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে পুনর্বাসন করছে বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে তিনি এ অভিযোগ করেন।
জামায়াত এমপি প্রতিবন্ধীরাই সমাজে সবচেয়ে বেশি অবহেলিত
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা সমাজে সবচেয়ে বেশি অবহেলিত এবং বিগত দিনে কোনো সরকারই তাদের প্রতি যথাযথ নজর দেয়নি বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেন।
ঢাবি থেকে চূড়ান্তভাবে আলাদা হলো সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সঙ্গে সরকারি সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের প্রশাসনিক ও শিক্ষাসংক্রান্ত তথ্যের আনুষ্ঠানিক সংযোগের অবসান ঘটেছে। সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের সব তথ্য-উপাত্ত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এর মধ্য দিয়ে তথ্য-উপাত্ত হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো।
সাদিক কায়েম ভেরিফিকেশনের পর এবার প্রশ্নফাঁসের তামাশা
‘ভেরিফিকেশনের পর এবার প্রশ্নফাঁসের তামাশা শুরু করল বিএনপি সরকার, ঠিক যেন আওয়ামী যুগে ফিরে যাচ্ছি আমরা’, এমন মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম।
















