একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় জামায়াত নেতা ও গাইবান্ধার সাবেক সংসদ সদস্য আবু সালেহ মুহাম্মদ আব্দুল আজিজ মিয়া’সহ ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

আজ (বুধবার) ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বাধীন ৩ সদস্যের বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

আব্দুল আজিজ ছাড়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্যান্য আসামিরা হলেন- মো. রুহুল আমিন ওরফে মঞ্জু (৬১), মো. আব্দুল লতিফ (৬১), আবু মুসলিম মোহাম্মদ আলী (৫৯), মো. নাজমুল হুদা (৬০) ও মো. আব্দুর রহিম মিঞা (৬২)।

তাদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যা, হত্যা, আটক, অপহরণ, লুণ্ঠন ও নির্যাতনের ৩টি অভিযোগ রয়েছে। মামলায় ৬ আসামিদের মধ্যে মো. আব্দুল লতিফ কারাগারে আছেন। বাকি ৫ আসামি পালাতক।

এই রায়ের মাধ্যমে একাত্তরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আনা ২৯তম মামলার রায় ঘোষণা হলো আজ। অন্যদিকে সর্বশেষ নবগঠিত এ ট্রাইব্যুনালে এটিই প্রথম রায়।

এর আগে রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক (আর্গুমেন্ট) উপস্থাপন শেষে গত ২৩ অক্টোবর মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখা হয়েছিল। পরে মঙ্গলবার রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়।

আজিজ’সহ গাইবান্ধার ৬জনের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। একই বছরের ২৩ নভেম্বর প্রসিকিউশনের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২৬ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল ৬জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। মাত্র ১জন আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। পরে মুহাম্মদ আব্দুল আজিজ মিয়া ওরফে ঘোড়ামারাআজিজ’সহ সকল আসামিদের পলাতক দেখিয়েই আদালতে মামলার বিচারিক কাজ শুরু হয়।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় সদস্য আব্দুল আজিজ মিয়া ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ৪দলীয় জোটের অধীনে জামায়াত থেকে গাইবান্ধা সুন্দরগঞ্জ-১ আসনে সংসদ সদস্য ছিলেন।

এমবি