খিলগাঁও ফ্লাইওভারের ওপর উঠতেই চোখে পড়লো জটলা পাকানো চার শিশু।
কী যেন করছে ডিভাইডারের মাঝখানে বসে। দূর থেকেই কৌতূহলী চোখ দেখতে থাকলো তাদের।
বোঝা গেল, কিছু নিয়ে চারজনই মৃদু বাক-বিতণ্ডা করছে। হঠাৎ হাত ফসকে একটা কৌটা রাস্তার মাঝখানে পড়ে যায়।একজন সেটিকে কুড়িয়ে আনে এবং অন্যজনের হাতে তুলে দেয়।
সুমন শেখস্পষ্ট হয়, তারা কৌটার মুখ খোলার চেষ্টা করছিল। কৌটাটা খুলে একটি কিছু একটা ঢালতে থাকে পলিথিনে। এরপর সেখান থেকে সবাই তা ভাগ করে নেয়।
একটি শিশু মুখের সামনে পলিথিন নিয়ে জোরে জোরে শ্বাস নিতে থাকে। আরও স্পষ্ট হয়, এই চার পথশিশু সর্বনাশা মাদক ‘ড্যান্ডি’ গ্রহণ করছে। গড়ে ৮ থেকে ৯ বছর বয়সের এই চার শিশু তলিয়ে যাচ্ছে মাদকের করালগ্রাসে।
যেই ক্যামেরা হাতে কৌতূহলীকে দেখলো, অমনি ছুটে পালাতে থাকলো। কথা বলার জন্য অনেকক্ষণ ডাকাডাকির পর একজন এলো। নাম মুন্না। পরিচয় দিলো অন্য তিনজনেরও, রাকিব, শাকিব ও ওবায়দুল।
কেন এই ড্যান্ডি নিচ্ছো, জানতে চাইলে চারজনই হেসে ওঠে। মা-বাবার কথা জিজ্ঞেস করলে মুন্নার উত্তর, সহসাই বলে ফেলে ‘আমাগো কারো বাপ-মা নাই, এল্লিগাইতো ড্যান্ডি খাই।
কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে কথা বলে জানা গেল, চারজনে মিলে কাগজ কুড়িয়ে তা বিক্রির পর ৩০ টাকা জমলেই ড্যান্ডি কিনে নেয়। এরপর তা নিয়ে নেশা করে।
দিনে কয়বার তারা এই নেশায় মগ্ন হয়, তা তারাও জানে না। মা-বাবা নেই বলে যেন খোঁজ নেওয়ারও কেউ নেই এই পথশিশুদের।
এএস





