কুমিল্লার দেবিদ্বারে কুখ্যাত আন্তজেলা ডাকাত সর্দার সুমন কে গুলি ভর্তি বিদেশী পিস্তলসহ গ্রেফতার করেছে দেবিদ্বার থানা পুলিশ । ডাকাত সুমন দেবিদ্বার উপজেলাধীন কুরুইনের হাফিজ উদ্দিনের ছেলে ।
সুমন প্রায় দশ বছরের অধিক সময় ডাকাতি, ছিনতাই, বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড করে আসছিলো। সর্বশেষ ধরা পড়েছিল ১৪ইং সালে। এরপরে জামিনে বেরিয়ে দলকে পুর্নগঠিত করে আবারো অপরাধ কর্মকান্ড জড়িয়ে পড়ে। বরুড়া, চান্দিনা, মুরাদনগর, দেবিদ্বার ও বুড়িচংসহ আশে পাশের কয়েকটি উপজেলায় নিয়মিত রাতের ত্রাস রূপে আবির্ভূত হতো সে। বিলে অবস্থান নিয়ে পায়ে হেঁটে বিলের সংলগ্ন বিল্ডিং বাড়ীর ঘর গুলো তারা ডাকাতির জন্য টার্গেটে থাকতো । দলে অস্ত্র থাকে একটি। সেটিও রাখত সে তার নিজের কাছে।
তার দলের অন্যান্য ডাকাতদের কাছে দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র ও তালা ভাঙ্গার যন্ত্র থাকত। নগদ টাকা, স্বর্নলংকার ও মোবাইল ছিল তাদের লুণ্ঠনের প্রধান টার্গেট। বিলের মাঝখানে অবস্থান নিয়ে গভীর রাতে গ্রামের মানুষ ঘুমিয়ে পড়লে তারা বিলের কাছাকাছি বাড়ীতে হানা দিত। বিল্ডিং ঘরের কেঁচি কাটা গ্রীলের গেইটের ফাঁক দিয়ে তালা ভাঙ্গার যন্ত্র ঢুকিয়ে চোখের পলকে তালা ভেঙ্গে ফেলত। অতঃপর ঘরে ঢুকে কাল মুখোশ পরিহিত ডাকাতরা বাড়ীর লোকজনদের জিম্মি করে ২০/৩০ মিনিটের মধ্যে ডাকাতি সেরে সবাইকে এক রুমে আটকে আবার বিল দিয়ে পায়ে হেঁটে পালিয়ে যেত। গ্রীলের তালা ভাঙ্গার শব্দে বাড়ীর লোকজন টের পেয়ে গেলে নিজেদের থানার লোক আর ঘরে ঢুকে গেলে ডাকাত বলে পরিচয় দিত । ডাকাতির জন্য তারা রাতের অন্ধকার সময়টি বেছে নিত (যখন চাঁদের আলো থাকে না) । এই ছিল তাদের অপরাধ সংগঠনের প্রক্রিয়া।
গ্রেফতারের পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে অকপটে এসব তথ্য দেয় ডাকাত সুমন। এদের হাত থেকে রক্ষা পেতে পুলিশ প্রশাসনের উদ্যোগে ও ইউ.পি চেয়ারম্যান, মেম্বার ও কমিউনিটি পুলিশিং সদস্যদের সহায়তায় পুলিশ টহলের পাশাপাশি গ্রামবাসীও ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে রাত জেগে ৩/৪ ঘন্টা করে পাহারা দিত। রাত্রীকালীন পাহড়ার কারণে দেবিদ্বারে ডাকাত সুমন গ্রুপের অন্তত ৫/৬ টি ডাকাতির উদ্যোগ ব্যর্থ হলেও সর্বশেষ গত ৪ আগস্ট খয়রাবাদ গ্রামে সুলতান মাষ্টারের বাড়ীতে সংগঠিত ডাকাতির ঘটনায় আটক উটখাড়ার সুমন ডাকাত বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দিতে উল্লেখিত ডাকাত সুমনের নেতৃত্বে ডাকাতি সংগঠিত করার তথ্য দেয় । উক্ত জবানবন্দিতে প্রকাশিত নয় জন ডাকাতের মধ্যে ইতিমধ্যে ৮ জনকে দেবিদ্বার থানা পুলিশ গ্রেফতার করে কারাগারে প্রেরণ করে।
গত ১৯ আগষ্ট দিবাগত রাত সাড়ে ১২ টায় এভাবেই ডাকাতি সংগঠিত করার জন্য বিহারমন্ডল গ্রাম সংলগ্ন বিলে অবস্থান নিয়েছিল সুমন ও তার সহযোগিরা। বিলের মাঝে লাইটের আলো দেখে গ্রামবাসীর সন্দেহ হলে তারা পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ দ্রুত গ্রামবাসীর সহায়তায় বিলের মাঝে নেমে অভিযান চালিয়ে একটি এক রাউন্ড গুলি ভর্তি ৭.৬৫ বোরের বিদেশী পিস্তলসহ ডাকাত সুমনকে হাতে নাতে গ্রেফতার করে। এসময় সুমনের সহযোগীরা পালিয়ে গেলেও পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুইটি কিরিচ, একটি তালা ভাঙ্গার কোরাবারি, মুখোশ ও দুইটি কার্তুজের খোসা জব্দ করে। দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মিজানুর রহমানের নির্দেশনায় উপ পরিদর্শক (এস.আই) সোহেল আহমেদের নেতৃত্বে এস.আই মোর্শেদ আলম, এস আই মোঃ আশিকুর রহমানসহ পুলিশ ফোর্স এ অভিযানে অংশ নেন।
অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও ডাকাতির উদ্দেশ্যে সমবেত হওয়ার দায়ে দেবিদ্বার থানায় ২টি মামলা দায়ের করা হয়। তার বিরুদ্ধে দেবিদ্বার, মুরাদনগর, বুড়িচং, চান্দিনা ও দাউদকান্দি থানায় মোট অন্তত ২০ টির মত ডাকাতির মামলা রয়েছে। ডাকাত সুমন গ্রেফতারের সংবাদ চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে দেবিদ্বারসহ আশপাশের থানা গুলোর মানুষের মাঝে আনন্দের ঢল নেমে আসে। বিভিন্ন এলাকার চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা এলাকায় মিষ্টি বিতরণ করেন এবং থানায় ফোন করে পুলিশকে অভিনন্দন জানান।
এসএ





