২৭০০ কোটি টাকার মানি লন্ডারিংয়ের ৯ মামলায় আলোচিত হলমার্ক গ্রুপের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশের জন্য আদালত আগামী ১৪ মার্চ দিন ধার্য করেছেন । আসামিপক্ষের সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে বৃহস্পতিবার এ তারিখ ধার্য করেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. কামরুল হোসেন মোল্লা ।

এদিন মামলাটির অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু মানি লন্ডারিং আইনের বিষয়ে উচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জ করে রিট পিটিশন করায় অভিযোগ গঠনের আদেশ পেছানোর জন্য সময়ের আবেদন করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম। আদালত তাদের সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে ওই দিন ঠিক করেন।

মামলার আসামিরা হলেন, প্রতিষ্ঠানটির মালিক তানভীর মাহমুদ, ও গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক তুষার আহমেদ (তানভীরের ভায়রা ), সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের জি এম মীর মহিদুর রহমান, দুই উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) শেখ আলতাফ হোসেন (সাময়িক বরখাস্ত) ও মো. সফিজউদ্দিন আহমেদ (সাময়িক বরখাস্ত)। তারা কারাগারে আছেন।

এছাড়াও তানভীরের স্ত্রী ও গ্রুপের চেয়ারম্যান জেসমিন ইসলাম ও ডিএমডি আতিকুর রহমান (বর্তমানে ওএসডি) জামিনে আছেন । কারাগারে মারা গেছেন সোনালী ব্যাংক হোটেল রূপসী বাংলা শাখার ব্যবস্থাপক এ কে এম আজিজুর রহমানসহ দুইজন।

মামলার অপর ১৭ আসামি পলাতক রয়েছেন। এরা হলেন- হলমার্ক গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান অ্যাপারেল এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. শহিদুল ইসলাম, স্টার স্পিনিং মিলসের মালিক মো. আব্দুল বাছির, টি অ্যান্ড ব্রাদার্সের পরিচালক তসলিম হাসান, ম্যাক্স স্পিনিং মিলসের মালিক মীর জাকারিয়া, সেঞ্চুরি ইন্টারন্যাশনালের মালিক মো. জিয়াউর রহমান, আনোয়ারা স্পিনিং মিলসের মালিক মো. জাহাঙ্গীর আলম, প্যারাগন গ্রুপের এমডি সাইফুল ইসলাম রাজা, নকশী নিটের এমডি মো. আবদুল মালেক ও সাভারের হেমায়েতপুরের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জামাল উদ্দিন সরকার, সেনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের জি এম ননী গোপাল নাথ (বর্তমানে ওএসডি), প্রধান কার্যালয়ের প্রাক্তন ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমায়ুন কবির, ডিএমডি মাইনুল হক (বর্তমানে ওএসডি), দুই এজিএম মো. কামরুল হোসেন খান (সাময়িক বরখাস্ত) ও এজাজ আহম্মেদ, সহকারী উপমহাব্যবস্থাপক মো. সাইফুল হাসান, নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল মতিন ও সোনালী ব্যাংক ধানমণ্ডি শাখার বর্তমান জ্যেষ্ঠ নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেরুন্নেসা মেরি।

উল্লেখ্য যে, ২০১৪ সালের ১৩ নভেম্বর একই আদালত পলাতক ১৭ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। ২০১২ সালের ৪ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় তানভীর মাহমুদসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে ১১টি মামলা করে দুদক। মামলায় তাদের বিরুদ্ধে ২ হাজার ৬৮৬ কোটি ১৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করা হয় বলে জানা গেছে।

   এমআইএস