একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি নেতাসালাহউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর সাথে দেখা করতে পারলেন না পরিবারের সদস্যরা।
বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষার পরও কারা কর্তৃপক্ষের অনুমতি না পেয়ে তারা ফিরে যান। শনিবার ফের আবারও বাবার সাথে দেখা করতে আসবেন বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন সাকার দুই ছেলে। এ সময় তাদের হাতে বাবার সঙ্গে দেখা করার অনুমতি চেয়ে কারাকর্তৃপক্ষের প্রতি লেখা আবেদন দেখা যায়।
বাবা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী ‘একটি বড় বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে কথা বলতে চেয়েছেন’বলেওজানিয়েছেন তার দুই ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী ও ফাইয়াজ কাদের চৌধুরী।
উল্লেখ্য, শুক্রবার (২০ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে সাকা চৌধুরীর সঙ্গে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটকে দেখা করতে আসেন তার পরিবারের সদস্যরা। এসময় তাদের সঙ্গে ছিলেন দুই আইনজীবী অ্যাডভোকেট হুজ্জাতুল ইসলাম খান আল ফেসানী ও অ্যাডভোকেট জাকারিয়া ইসলাম।

কিন্তু কারা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে সাকার সঙ্গে সাক্ষাতকার করতে দেননি। পরে অপেক্ষমান সাংবাদিকদের সাকার দুই ছেলে বলেন, ‘দুপুর থেকে আমাদের আইনজীবীরা বাবার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে অপেক্ষা করেছিলেন এখানে (কারাফটকে)। তাদের কথা বলার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
পরে দুই ছেলে জানান, বাবা একটি বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য কথা বলতে চেয়েছেন। আমরা সে সুযোগটি পেতে আবারও এসেছি।’তবে কী সেই ‘বড় সিদ্ধান্ত’ সে বিষয়ে কিছু স্পষ্ট করেননি হুম্মাম ও ফাইয়াজ।
কারাফটকে বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর কর্তৃপক্ষের কোনো সাড়া না পাওয়ায় ফিরে যান সাকা চৌধুরীর ছেলে ও আইনজীবীরা। অবশ্য, শনিবার (২১ নভেম্বর) তারা আবারও সাক্ষাৎ করার আশায় আসবেন বলে জানান।
সাকার আইনজীবী হুজ্জাতুল ইসলাম জানিয়েছেন, কারাকর্তৃপক্ষ অনুমতি দিলে সাকা চৌধুরীর সঙ্গে দেখা করতেন তারা। কিন্তু কারাগারে ঢুকতে যেসব কর্মকর্তাদের অনুমোদন লাগে, তারা এখন সেখানে নেই। যে কারণে তারা ফিরে যাচ্ছেন।
এদিকে, সাকার ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী সাংবাদিকদের আরও বলেন, ‘গতকাল (বৃহস্পতিবার) বাবার সঙ্গে দেখা হয় ঠিকই, কিন্তু তেমন কোনো কথা হয়নি আমাদের। বাবা বলেছিলেন, আইনজীবীদের সঙ্গে দেখা করতে চান। তাদের কাছে তার মনের ইচ্ছাগুলো বলতে চান। সেই কারণে আইনজীবীদের নিয়ে তার সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু করাকর্তৃপক্ষের অনুমতি না পেয়ে আইনজীবীরা চলে যান।

এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আইনগতভাবে ব্যক্তিগত আইনজীবীদের সঙ্গে দেখা করার কোনো সুযোগ এখন আর নেই। কারণ ইতোমধ্যেই সবই আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে চূড়ান্ত রায় দেয়া হয়েছে। এখন অবশিষ্ট একটিমাত্র পথ অর্থাৎ রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার বিষয়টি আসামীর একান্ত ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।
কর্তৃপক্ষ আরও জানান প্রাণভিক্ষার আবদনের নিয়ম হলো- আসামী কারাগারের ভেতরে থেকেই একজন ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে কারাকর্তৃপক্ষকে এ সিদ্ধান্ত জানাবেন।
তবে, পাশাপাশি অবস্থিত ফাঁসির কনডেম মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করেছেন কীনা সে বিষয়ে কারাকর্তৃপক্ষ এখনও কিছু জানায়নি।
কেবি





