রাজধানীর মতিঝিলের ফকিরাপুল এলাকা থেকে সুমি (২৩) নামের এক তরুণীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় জড়িত একজনকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
শনিবার বিকালে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন র্যাবের মিডিয়া উইংয়ের সহকারী পরিচালক ক্যাপ্টেন মাকসুদুল আলম।
তিনি জানান, শনিবার সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজধানীতে অভিযান চালিয়ে সুমি হত্যার সঙ্গে জড়িত একজনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৩ এর একটি দল। তাৎক্ষণিকভাবে তার নাম জানা যায়নি।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বিকেলের দিকে স্থানীয়দের দেওয়া খবরের ভিত্তিতে মতিঝিল থানা পুলিশ ফকিরেরপুল এলাকার ১৯৩/১ নম্বর একটি ভবনের সপ্তম তলার চিলেকোঠা রুম থেকে ওই তরুণীর মাথা উদ্ধারে করে। এরপর পুরো ভবনে তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তা, গোয়েন্দা পুলিশ ও সিআইডি কর্মকর্তারা।
ওই ভবন ছাড়াও আশেপাশের ওলি-গলি ও ছাদ তন্ন-তন্ন করে খোঁজা হয়। শেষে পানির ট্যাংকির বিপরীত পাশে ওয়াসার গাড়ি রাখা হয় যে স্থানে তার টিনের চালায় পাওয়া যায় কোমর থেকে গলা পর্যন্ত একটি অংশ। এরপর ১নং গলির আরেকটি ছাদ থেকে দুই পা ও দুই হাতের টুকরো পাওয়া যায়। তার পাশের ছাদ থেকে মেলে আরো এক টুকরো।
মতিঝিল থানার এসআই জামাল ও আব্দুল আউয়াল জানান, চার জায়গা থেকে অজ্ঞাতনামা তরুণীর সাত টুকরো লাশ উদ্ধার করা হয়। পরনে কোনো কাপড় ছিল না। মুখমন্ডল ঝলসানো কালি মাখানো ছিল। পুলিশের ধারণা মেয়েটিকে যাতে কেউ চিনতে না পারে সেজন্য মুখ আগুনে ঝলসে দিয়ে পরে কালি মাখানো হয়েছে।
ঘটনাস্থলে আসা সিআইডির পরিদর্শক আওরঙ্গজেব জানান, লাশের সুরত দেখে মনে হয়, গতকাল রাতের কোনো এক সময় মেয়েটিকে হত্যা করা হয়েছে। এরপর হত্যাকারীরা ধরা পড়বে এমন আশঙ্কায় লাশ টুকরা করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেয়।
ঘটনার একদিন পর মতিঝিল থানার এসআই মফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এঘটনার পর এর সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করতে পুলিশ, গোয়েন্দা ও র্যাবসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চেষ্টা চালায়।
এআই/এসএইচ





