মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত জাতীয় পাটির সাবেক প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারের বিরুদ্ধে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মনোয়ারা বেগমের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে তাকে জেরা শুরু করে আগামী ১৩ জুলাই পর্যন্ত মুলতবি করেছে। একই সঙ্গে আগামী ১৪ জুলাইয়ের মধ্যে জেরা শেষ করার আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
এ নিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা মনোয়ারা বেগমের দু’দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। গত ২ জুলাই সাক্ষ্য দেওয়া শুরু করেন তিনি। আজ সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে তাকে জেরা শুরু করেছেন কায়সারের আইনজীবী আবদুস সোবহান তরফদার ও এস এম শাহজাহান।
উল্লেখ্য, গত ৪ মার্চ কায়সারের বিরুদ্ধে সূচনা বক্তব্য (ওপেনিং স্টেটমেন্ট) উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম। গত ২ ফেব্রুয়ারি সৈয়দ কায়সারের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। কায়সারকে গণহত্যার একটি, হত্যা,নির্যাতন,অগ্নিসংযোগ ও লুণ্ঠনের ১৩টি এবং ধর্ষণের দু’টিসহ মোট ১৬টি মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
গত বছরের ৫ আগস্ট শর্তসাপেক্ষে জামিন পেয়ে বর্তমানে রাজধানীতে ছেলের বাসায় রয়েছেন কায়সার। কায়সার হচ্ছেন দ্বিতীয় কোনো আসামি যাকে জামিনে রেখে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারকাজ পরিচালিত হচ্ছে।
গত বছরের ২১ মে সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারকে রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতাল থেকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরদিন ২২ মে কায়সারের জামিন আবেদন খারিজ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
কায়সারের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়েছে,৭১ এ সৈয়দ কায়সার প্রথমে হবিগঞ্জ মহাকুমা শান্তি কমিটির সদস্য ও রাজাকার কমান্ডার ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি ৫০০/৭০০ স্বাধীনতাবিরোধী লোক নিয়ে নিজের নামে ‘কায়সার বাহিনী’ নামে পাকিস্তানি সেনাদের সহযোগিতা করার জন্য একটি সহযোগী বাহিনী গঠন করেন।
ঢাকা,কেএ ৭ জুন(টাইমনিউজবিডি.কম)//





