মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধে মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ হতে মৃতুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ কামারুজ্জামানের আপিলের শুনানিতে ট্রাইব্যুানালের দেয়া রায় পাঠ শুরু হয়েছে। 

মঙ্গলবার আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির বেঞ্চে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

আদালতে আজ রায়ে উল্লেখিত তিন নম্বর অভিযোগ পাঠ শেষে চতুর্থ অভিযোগের আংশিক পাঠ করেন অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম।

তাকে সহযোগীতা করেন শিশির মুহাম্মদ মুনির। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম উপস্থিত ছিলেন।

কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে আনিত তৃতীয় অভিযোগে রয়েছে- একাত্তরের ২৫ জুলাই আলবদর ও রাজাকাররা পাকিস্তানি সেনাদের নিয়ে শেরপুরের সোহাগপুর গ্রামে নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালায় এবং নারীদের ধর্ষণ করে।

গত ১৮ মে থেকে কামরুজ্জামানের মামলার আপিল শুনানি শুরু হয়। আজ সপ্তম দিনের মতো তার আপিল শুনানি শেষ হয়। মানবতাবিরোধী অপরাধে আপিল বিভাগে কামরুজ্জামানের মামলার শুনানির জন্য একটি বিশেষ বেঞ্চ গঠন করা হয়। এর আগে কাদের মোল্লা ও মাওলানা দেলওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলায় প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ শুনানি গ্রহণ করতেন।

গত বছরের ৬ জুন ট্রাইব্যুনাল-২ এর দেওয়া ফাঁসির আদেশ থেকে খালাস চেয়ে আপিল করেন কামারুজ্জামান।

আপিলে ২৫৬৪টি মূল ডকুমেন্ট, ১২৪টি গ্রাউন্ডসহ সর্বমোট ১০৫ পৃষ্ঠার ডকুমেন্ট জমা দেয়া হয়েছে।

গত ৯ মে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার রায় ঘোষণা করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

তার বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনা ৭টি অভিযোগের মধ্যে ৫টিই সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ হওয়ায় এ রায় ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া বাকী দুটি অভিযোগ প্রমানিত হয়নি মর্মে তাকে খালাস দেয়া হয়।

ঢাকা,কেএ ১ জুলাই(টাইমনিউজবিডি.কম)//এসএইচ