দেশে এসিড সন্ত্রাস কমে এলেও বাড়ছে বিচার পাবার ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রিতা। বিচার ব্যবস্থার এ দীর্ঘসূত্রিতায় পার পেয়ে যাচ্ছে অপরাধীরা, ভোগান্তি বাড়ছে আক্রান্তদের। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাবে পার পেয়ে যাচ্ছে অনেক আসামি। তবে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দাবি, এসিড সন্ত্রাসীদের বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে সরকারের।
দুর্বিষহ এক জীবন করছেন আঁখি। যে জীবনে বেঁচে থাকা মানেই কষ্ট আর যন্ত্রণার চিহ্ন বয়ে বেড়ানো। এরপরও আশায় বুক বেঁধে আঁখি প্রতিদিনই লড়াই করছেন নতুন করে বাঁচার।
গত বছর ১৫ই জানুয়ারি এসিড সন্ত্রাসের শিকার হন ইডেন কলেজ ছাত্রী আঁখি। ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত মনিরকে গ্রেফতার করা হলেও সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পেয়ে সে ঘুরে বেড়াচ্ছে বহাল তবিয়তে। শুধু তা-ই নয় সে নানা রকম হুমকি দিয়ে চলেছে বলেও অভিযোগ আঁখির।
আঁখি বলেন, আমি তো কোন অপরাধ করিনি, সে অপরাধ করেছে, এখন বের হয়ে মানুষের কাছে বিভিন্ন রকম দুর্নাম ছড়াচ্ছে। আমি এখন খুবই আতঙ্কের মধ্যে আছি।
আঁখির মতো বিচারের আশায় দিন গুনছেন শত শত এসিডদগ্ধ নারী-পুরুষ। এসিড সন্ত্রাস জামিন অযোগ্য অপরাধ হওয়া সত্ত্বেও এসংক্রান্ত মামলায় আসামীরা জামিন পেয়ে যাচ্ছে যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন নারী অধিকার নেত্রীরা।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভানেত্রী আয়েশা খানম বলেন, আসামীর অনুরোধে ঘটনার সম্পূর্ণ তদন্ত না করেই তারা স্থগিতাদেশ দিয়েছে।
এসিড সারভাইভরস ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সেলিনা আহমেদ বলেন, জামিনযোগ্য অপরাধ না হওয়া সত্যেও কেবলমাত্র রাজনৈতিক তদবিরে আসামীরা বের হয়ে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতির নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট সালমা আলী বলেন, এভাবে বিচারিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক বাধা আসলে কিন্তু অপরাধীরা আর অপরাধ করতে সাহসী হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ১২ বছরে দেশে এসিড নিক্ষেপের মামলা হয়েছে প্রায় ১৯ শো। এসব মামলার প্রায় ৫ হাজার অভিযুক্তের মধ্যে ৮৮ শতাংশই আসেনি শাস্তির আওতায়। এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়েছে মাত্র ৫৯০ জন বা ১২ শতাংশ। আর সাজা হয়েছে মাত্র ১৭২টি মামলায়। বিগত ১১ বছরে ১৩ আসামীর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় হলেও এখনো কার্যকর হয়নি কোন রায়।
রাজনৈতিক প্রভাবে এসিড সন্ত্রাসীদের অনেকে পার পেয়ে যাচ্ছে এমন অভিযোগ অস্বীকার করেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এসিড নিক্ষেপ নিয়ে আমরা অনেক শক্ত অবস্থানে আছি, এরকম মামলায় আমরা কোন প্রকার হস্তক্ষেপ করিনা, ওই মেয়েটি যদি আমাদের কাছে অভিযোগ করে, জীবনের নিরাপত্তা চায় আমরা তাকে অবশ্যই সাহায্য করবো এবং অপরাধীকেও গ্রেফতার করবো।
এসিডদগ্ধ ও তাদের পরিবার এবং সাক্ষীদের সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে বলেও জানান স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
ঢাকা, ১২ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, জেআই





