ফিল্ম ডেভলপমেন্ট করপোরেশনকে (এফডিসি) নতুন যন্ত্রপাতির নামে ৪ কোটি টাকার পুরাতন যন্ত্রপাতি সরবরাহ এবং নানা দুর্নীতির ঘটনায় এফডিসির ঠিকাদারসহ আরো ১১ কর্মকর্তাকে তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদক উপ-পরিচালক হামিদুল হাসান গত বুধবার এ তলবি নোটিশ পাঠান। নোটিশে আগামী ৫ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ৯ টায় এফডিসি'র শব্দ গ্রহণ প্রকৌশলী জানে আলম, নির্বার্হী প্রকৌশলী মোশাররফ আহম্মেদ, ষ্টোর কিপার রেজাউল করিম, এফডিসি ল্যাব প্রধান শেখ মহি উদ্দিনকে।
৬ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ৯ টায় ঠিকাদার; (খোদা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মালিক) খন্দকার মহিদুল ইসলাম, অতিরিক্ত পরিচালক সহিদুল ইসলামকে।
৭ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ৯ টায় সাবেক প্রকল্প পরিচালক মো. মফিদুল ইসলাম, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইদুর রহমান, ডেপুটি প্রকল্প পরিচালক শাহজাহান হোসেনসহ মোট ১১ জনকে ৩দিনে জিজ্ঞসাবাদের জন্য তলবি নোটিশ পাঠানো হয়।
এরআগে গত ২৯ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ১০ টার মধ্যে এফডিসি’র সাবেক প্রকল্প পরিচালক কেএম আইয়ুব আলী এবং সহকারি প্রকল্প পরিচালক মনিরুজ্জামান খানকে দুদকে জিজ্ঞসাবাদ করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, এফডিসিকে আধুনিকায়ন এবং মানসম্পন্ন করার জন্য বিভিন্ন সময়ে একাধিক প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। একই সঙ্গে আধুনিক যন্ত্রপাতি ক্রয়ের জন্য মোটা অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ দেয় কর্তৃপক্ষ। এ সুযোগে এফডিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় একাধিক ঠিকাদার বরাদ্দ; করা অর্থ লোপাট করেন।
এদিকে দুদকে অভিযোগ রয়েছে, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এফডিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় ‘ফেইথ ইন্টারন্যাশনাল’ এবং আরো ২/৩ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান প্রতারণার মাধ্যমে ওই অর্থ হাতিয়ে নেয়।
এফডিসি কর্তৃপক্ষ ২০০৬ সালে ৪ কোটি টাকার ডিজিটাল সাউন্ড টারবো সিস্টেম (ডিটিএস) ক্রয়ের জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করে। পরে ২০০৭ সালের ৪ এপ্রিল ‘ফেইথ ইন্টারন্যাশনাল’(ঠিকাদারী) প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেয় এফডিসি কর্তৃপক্ষ।
কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি কৌশলে নতুন ডিটিএস যন্ত্রপাতির পরিবর্তে পুরাতন যন্ত্রপাতি সরবরাহ করে পুরো ৪ কোটি টাকার বিল নিয়ে যায়। এফডিসিতে কাঁচা ফিল্ম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘ফিল্ম ট্রাস্টের’ কর্মচারি উজ্জ্বল চক্রবর্তী ‘ফেইথ ইন্টারন্যাশনাল’ নামক প্রতিষ্ঠানের অংশীদার হিসেবে নেপথ্যে থেকে এ অর্থ হাতিয়ে নেন বলে অভিযোগ ওঠে।
জানা যায়, ২০০৭ সালে ‘ফেইথ ইন্টারন্যাশনাল’ নামক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কার্যাদেশ পেয়ে ডিটিএস সরবরাহ করে। তার সরবরাহকৃত যন্ত্রপাতির মধ্যে অন্তত ১৬টি আইটেম পুরাতন বলে ধরা পড়ে। অথচ এলসি’র বিপরীতে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ৬০ শতাংশ অর্থ ব্যাংক থেকে তুলে নেয়।
একে, জেএ





