আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যালের প্রসিকিউটর (প্রশাসন) মুক্তিযোদ্ধা জেয়াদ-আল মালুম (৬৭) মারা গেছেন।
শনিবার (২৬ জুন) দিবাগত রাত ১২টার দিকে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
গত ২৫ মে রাতে স্ট্রোক করে অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে ওই হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার ফুসফুসে সংক্রমণ ও মারাত্মক জটিলতা ধরা পড়ে। শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হওয়ায় ২৭ মে দুপুরে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়। এরপর গত ০২ জুন তাকে সিএমএইচে স্থানান্তর করা হয়।
অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল পদমর্যাদায় প্রসিকিউটর (প্রশাসন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়িত্বরত আছেন জেয়াদ আল মালুম। তিনি ১৯৮৩ সালের ১৩ অক্টোবর আইন পেশার সনদপ্রাপ্ত হয়ে একই বছরের ১৮ ডিসেম্বর ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্যভুক্ত হন।
এরপর ১৯৮৯ সালের ৩০ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আইন পেশা পরিচালনার জন্য অনুমতি প্রাপ্ত হন এবং ১৯৯৯ সালের ১৫ মার্চ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সদস্য হন। তিনি ২০১০ সালের ২৫ মার্চ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠিত হলে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল পদমর্যাদায় প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযম ও মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ, বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীসহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে করা মামলার বিচারে রাষ্ট্রপক্ষে বিশেষ ভূমিকা রাখেন।
তার স্ত্রী অধ্যাপক ডা. সানিয়া তাহমিনা একজন চিকিৎসক এবং তিনি এক পুত্র ও এক কন্যা সন্তানের জনক।
জেয়াদ আল মালুমের জন্ম টাঙ্গাইল জেলার সদর থানার করোটিয়া গ্রামে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। এ সময় জেয়াদ আল মালুম ছাত্র ইউনিয়নের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি এবং সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সংশ্লিষ্ট শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এমবি





