সহসা রেহাই পাচ্ছেন না প্রবাসী কল্যাণ সচিব ড. খোন্দকার শওকত হোসেন। তার বিরুদ্ধে প্লট জালিয়াতির ৩ মামলার পুনঃতদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

শিগগিরই সচিব শওকতের বিরুদ্ধে প্লট জালিয়াতির ৩ মামলার পুন:তদন্তে কর্মকর্তা নিয়োগ করা হচ্ছে। তবে চাকরিতে থাকা অবস্থায় সচিব শওকতের বিরুদ্ধে দুদক জোরালো কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে জানা যায়।

অভিযোগ রয়েছে, অবসরে যাবার আগে দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা  উপ পরিচালক যতন কুমার রায় পরিচালক হিসেবে পদোন্নতির সুবিধা পেয়ে আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিটের পরিবর্তে ফাইনাল রিপোর্ট দাখিলের সুপারিশ রেখেছেন। এ তদন্ত কর্মকর্তা গত ৯ নভেম্বর ড. খোন্দকার শওকত হোসেনকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি প্রদানের সুপারিশ করে  ফাইনাল রিপোর্ট দাখিলের অনুমতি চেয়েছেন।

এদিকে  ওই তদন্ত প্রতিবেদনের উপর গত ৩০ নভেম্বর কমিশন  এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সচিব ড. খোন্দকার শওকত হোসেনের বিরুদ্ধে প্লট জালিয়াতির ৩ মামলার পুনঃতদন্তের । কারণ এ ৩ মামলায় চার্জশিটের পরিবর্তে ফাইনাল রিপোর্ট দাখিলের সুপারিশের বিষয়টি দুদক এবং সংশ্লিষ্ট মহলে বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

শুধু তাই নয়, তদন্ত প্রতিবেদনে সুপারিশের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে চার্জশিট দাখিলের পক্ষে শক্ত অবস্থান নেন এক কমিশনার। তিন সদস্যের কমিশনে সংখ্যাগরিষ্ঠের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গৃহীত হবার বিধান। এবং অপর  কমিশনার পুনরায় তদন্তে পক্ষে অবস্থান নেন। এ পরিস্থিতিতে কমিশনের চেয়ারম্যান পুনরায় তদন্তের পক্ষে সিদ্ধান্ত দেন।
জানা যায়,গত ২২ এপ্রিল দুদকপ্রবাসী কল্যাণ সচিব ড. খোন্দকার শওকত হোসেনের বিরুদ্ধে  নামে-বেনামে একাধিক প্লট গ্রহণ এবং বেআইনিভাবে প্লটের আয়তন বৃদ্ধির অভিযোগে ৩টি মামলা দায়ের করে । আর এ মামলা তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করেন দুদকের  তৱকালীন উপ পরিচালক যতন কুমার রায় ।  তিনি টানা  ৬ মাস তদন্ত শেষে গত ৯ নভেম্বর ড. খোন্দকার শওকত হোসেনকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি প্রদানের সুপারিশ করে  ফাইনাল রিপোর্ট দাখিলের অনুমতি চান।

 অথচ মামলার অভিযোগে দুদকের এ তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, সচিব ড. খোন্দকার শওকত হোসেন নামে-বেনামে একাধিক প্লট গ্রহণ, একাধিকবার আকার বৃদ্ধি রাজউক বিধি ‘দ্য টাউন ইমপ্র“ভমেন্ট অ্যাক্ট-১৯৫৩’ ও ‘দ্য ঢাকা ইমপ্রুভমেন্ট ট্রাস্ট (অ্যালোটমেন্ট অব ল্যান্ড) রুলস-১৯৬৯’পরিপন্থী কাজ করেছেন।

আসামি সচিব শওকত হোসেন রাজধানীর ইন্দিরা রোডে নিজের মালিকানায় অ্যাপার্টমেন্ট থাকা সত্ত্বেও নিজ নামে উত্তরায় রাজউকের প্লট নিয়েছেন। আকার পরিবর্তন করেছেন।

 সচিব শওকত তার মা জাকিয়া আমজাদের নামে উত্তরা সম্প্রসারিত প্রকল্পে প্লট নিয়েছেন ও পরে আকার বৃদ্ধির মাধ্যমে বিক্রি করেছেন। স্ত্রী আয়েশা খানমের নামে পূর্বাচল প্রকল্পে প্লট বরাদ্দ নিয়ে দুই দফা আকার বৃদ্ধি করেছেন, যা ১৯৪৭ সালের ২নং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা, দণ্ডবিধির ৪৭৭(ক)/১০৯ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

৯ নভেম্বর দাখিলকৃত তদন্ত প্রতিবেদনে এ কর্মকর্তা বলেন, রাজউক প্রকল্পে প্লট বরাদ্দের বিজ্ঞপ্তিতে যেসব শর্ত ছিল, খোন্দকার শওকত তার সবগুলোই পূরণ করেছেন। রাজউক এলাকায় নিজ অথবা পোষ্যের নামে প্লট-ফ্ল্যাট থাকলে তিনি আবেদন করতে পারবেন না- মর্মে যে শর্ত ছিল সেটিও এক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। কারণ স্বামীর নামে ফ্ল্যাট থাকলে স্ত্রী প্লটের জন্য আবেদন করলে এবং দুজনেরই পৃথক টিআইএন থাকলে কী হবে- রাজউকের বিজ্ঞপ্তিতে সেটি স্পষ্ট নয়।

তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব শওকত ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে রাজউক প্রকল্পে স্ত্রী ও মায়ের নামে একাধিক প্লট গ্রহণ করেছেন- এ অভিযোগও প্রমাণিত নয়। কারণ তার চেয়েও প্রভাবশালী ১২০ বিশিষ্ট ব্যক্তি একই কায়দায় একাধিক প্লট গ্রহণ করেছেন। ফলে এ প্রেক্ষাপটে অভিযোগ আনতে গেলে আরও অনেককেই ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অভিযুক্ত করতে হবে। ফলে বিচারে মামলার অভিযোগ প্রমাণ করা জটিল হয়ে পড়বে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কমিশনার (অনুসন্ধান) ড. নাসির উদ্দীন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, সচিব ড.খন্দকার শওকত হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা পুনঃতদন্তের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এদিকে অনুসন্ধান এবং তদন্ত প্রতিবেদনে একই কর্মকর্তার বিপরীত অবস্থানের ফলে ডাকসাইটে আমলা ড. খোন্দকার শওকত হোসেনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে নানা সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, উচ্চ মহলের চাপ ও প্রলোভনেই তদন্তের গতি ও দিক পরিবর্তন হয়ে গেছে। কারণ দুদক ইমেজ সংকটে পড়বে। আমলা প্রীতি, স্বজন প্রীতি এবং সরকারের হাতিয়ার হিসেবে দুদক কাজ করে এমন অভিযোগের প্রমাণ পারে জনগণ। ইতোমধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং ২০দলীয় নেতারা দুদককে একটি দায় মুক্তির কমিশন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

একে,