মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে কিশোরগঞ্জের তারাইল উপজেলার সৈয়দ মোঃ হাসান আলী ওরফে হাছেন আলীর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে ৬টি অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে তাকে হাজির হবার জন্য ২টি জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিতে নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুলাল।
রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন ৩ সদস্যর বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে শুনানি করেন প্রসিকিউটর আবুল কালাম আজাদ। আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর পরবর্তী শুনানির জন্য দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
গত ২১ আগষ্ট রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে ট্রাইব্যুনাল এ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করেন। এ মামলার সংশ্লিষ্ট প্রসিকিউটর আবুল কালাম আজাদ। গত ৫ আগস্ট আগামী ২৪ আগস্টের মধ্যে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দেয়ার আদেশ দিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল।
আনুষ্ঠানিক অভিযোগে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ, লুট, আটক ও নির্যাতনের ৬টি অভিযোগ আনা হয়েছে কিশোরগঞ্জের তাড়াইল থানার রাজাকার কমান্ডার হাসান আলীর বিরুদ্ধে। এতে ২৪ জনকে হত্যা, ১২ জনকে অপহরণ ও আটক এবং ১২৫টি ঘরে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ রয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধের সময় কিশোরগঞ্জের তাড়াইল থানার রাজাকার কমান্ডার ছিলেন হাসান আলী। সে সময় তিনি তাড়াইল থানা এলাকায় ‘রাজাকারের দারোগা’নামে পরিচিত ছিলেন। তবে তিনি কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে না থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মাছিহাতা গ্রামে বসবাস করতেন।
এ মর্মে গত ২৯ জুন সৈয়দ মোঃ হাসান আলীর বিরুদ্ধে ৪৭ পৃষ্ঠার তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের কাছে হস্তান্তর করেন তদন্ত সংস্থা। গত ৩ এপ্রিল ট্রাইব্যুনাল-১ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করার পর গত সাড়ে ৪ মাসেও তাকে গ্রেফতার করা যায়নি।
গত বছরের ৬ জুন থেকে তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেন তদন্ত সংস্থা। গত ১৯ জুন পর্যন্ত তদন্ত কার্যক্রম শেষে তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা হরি দেবনাথ। একেকটি অভিযোগের বিপরীতে ৬ থেকে ৭ জন সাক্ষী ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেবেন হাসান আলীর বিরুদ্ধে।
সৈয়দ হাসান আলীর পিতা সৈয়দ মোসলেম উদ্দিন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ডেমোক্রেটিক পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান এবং কিশোরগঞ্জ মহকুমা শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। পিতার আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে রাজাকার বাহিনীতে যোগদান করে কিশোরগঞ্জ মহকুমার তাড়াইল থানায় রাজাকার কমান্ডার হিসেবে নিয়োজিত হন সৈয়দ হাসান আলী।
কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে মুক্তিযুদ্ধের সময় ত্রাস ছিলেন রাজাকার হাসান আলী। তিনি ওই সময় তাড়াইল থানা এলাকায় ‘রাজাকারের দারোগা’হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
ঢাকা, কেএ, ২৪ আগষ্ট, টাইমনিউজবিডি.কম





