বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকে (বাংলাদেশ রুরাল এডভান্সমেন্ট কমিটি) গত এক মাসে প্রায় ১৫০০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ছাটাই করা হয়েছে।  আরো ৫০০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে শিগগিরই ছাটাই করা হচ্ছে। ফলে ব্র্যাকের প্রায় ৫৭ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীই ছাটাই আতঙ্কে আছেন।

জানা যায়, গত এক মাসে ছাটা্ই হয়েছে ব্র্যাকের মাইক্রো ফিন্যান্স বিভাগ থেকে ১৮০ জন, সৌর প্রকল্প থেকে ৩০০ জন, ওয়াটার অ্যান্ড স্যানিটারি বিভাগ থেকে ২৫০ জন, স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে ২০০জন, হিউম্যান রিসোর্স বিভাগ থেকে ৪২জনকে ছাটাই করা হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা বিভাগ থেকে ২৪০জনসহ আরো ৫ শতাধিক কর্মকর্তাকে ছাটাইয়ের তালিকা করা হয়েছে।

জানা যায়, ১৯৭০ সালে প্রলংকরি ঘুর্ণিঝড়ে উপকূলীয় অঞ্চলে ধ্বংসযজ্ঞ, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের বিধ্বস্ত অর্থনীতি, জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ, অবকাঠামো পুনর্গঠনে অংশ নিতে ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠা হয় বেরসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘বাংলাদেশ রুরাল এডভান্সমেন্ট কমিটি’। অনেকের সহযোগিতা নিয়ে ফজলে হাসান আবেদ ব্র্যাক প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার ৪২ বছরের মাথায় ব্র্যাক  বিশ্বের  মাঝে একটি বৃহৎ বেসরকারি  উন্নয়ন সংস্থা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। বাংলাদেশ ছাড়াও  ৮টি দেশে ব্র্যাকের কার্যক্রম বিস্তৃত হয়েছে। সেইসঙ্গে বেড়েছে এর জনবলও। বর্তমানে ব্র্যাকের স্থায়ী জনবল ৫৭ হাজারের বেশি।

 অথচ হঠাৎ ব্র্যাক গত কয়েক মাস ধরে জনবল ছাটাই শুরু করায় এর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে প্রচন্ড আতঙ্ক এব হতাশা দেখা দিয়েছে।

 অভিযোগ উঠেছে, দু’জন উর্ধ্বতন কর্মকর্তার অপছন্দের  লোজনকে ছাটাই করা হচ্ছে।ভুক্তভোগিদের অভিযোগ, এ ছাটাইয়ে কোনো নিয়ম-নীতির মানা হচ্ছে না। ব্যক্তি পছন্দ ও সম্পর্কের মাপকাঠিতে অমানবিক ভাবে চলছে  ছাটাই। পুরো কর্মজীবন কাটিয়ে চাকরিচ্যুতি ফেল অনেকেই এখন দিশেহারা।

ব্র্যাকের একজন সিনিয়র ম্যানেজার নাজির আজিজ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, তিনি টানা ২৪ বছর চাকরির পর চাকরিচ্যুত হয়েছেন।শুধু তাইনয় তার ডিপার্টমেন্ট থেকে  ৪ জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।ওই ৪জন এখন পর্যন্ত বেনিফিট পাননি। তিনি বলেন, চাকরির শেষ বয়সে ছাটাইয়ের ফলে এখন কোথায় চাকরি খুঁজবেন।

 আরো জানা যায়, চাকরিচ্যুতদের ৩ ভচর থেকে ৩০ বছর পর্যন্ত চাকরি করছেন-এমন কর্মকর্তা- কর্মচারী রয়েছেন। ফলে কর্মজীবনের প্রায় পুরোটা ব্র্যাকে কাটালেও চাকরিচ্যুতির পর কিভাবে জীবীকা নির্বাহ করবেন-এ দু'শ্চিন্তা তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে চাকরিহারারা। স্বাভাবিক অবসরের বয়সসীমায় পৌঁছার আগে ছাটাইয়ের সিদ্ধান্তকে অমানবিক ।

এদিকে ব্র্যাকের ভাইস চেয়ারপার্সন মোস্তাকুর রাজা চৌধুরী ছাটাইয়ের বিষয় স্বীকার করে সাংবাদিকদের বলেন, প্রতিষ্ঠানটি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ  সাংবাদিকদের বলেন, স্বাভাবিক নিয়মেই ব্র্যাকের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের ছাটাই করা হচ্ছে।

সংস্থা চালাতে হলে ছাটাই করতেই হয়। কর্তৃপক্ষ যে কোনো প্রজেক্ট বন্ধ করে দিলে তার প্রভাব পড়তে পারে এমপ্লয়ীদের মাঝে এটাই স্বাভাবিক। তিনি বলেন, নিয়ম-নীতির মধ্যে থেকেই ছাটাই চলছে। ব্যক্তি পছন্দ-অপছন্দের কোনো অবকাশ নেই। ব্র্যাক একটি বিধি নিয়ন্ত্রিত সংস্থা। স্বজনপ্রীতির কোনো সুযোগ এখানে নেই।

একে,