পরকীয়ার বলি পিতা জাহাঙ্গীর হত্যা মামলায় মা মুক্তা জাহানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলেন নিহতের কিশোরী মেয়ে এ্যামি জাহান (১৩) । মঙ্গলবার ঢাকার সপ্তম বিশেষ জজ আদালতে হাজির হয়ে এ সাক্ষ্য দেন তিনি।
এসময় এ্যামির ছোট ভাই রাব্বানীও (১০) আদালতে উপস্থিত ছিল। তবে এ্যামির সাক্ষ্য শেষ না হওয়ায় রাব্বানীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়নি।
রাব্বানী মুগদাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪র্থ শ্রেণিতে ও এ্যামি মুগদাপাড়া কাজী জাফর আহমেদ উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারক বারেকুজ্জামান সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করে আগামী ২৬ নভেম্বর সাক্ষীর জেরার জন্য দিন ধার্য করেছেন।
সাক্ষ্যগ্রহণের পুরোটা সময় আসামী মুক্তা জাহান মাথা নিচু করে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। অপর দুই আসামি পরকীয়া প্রেমিক জসিম ও জনৈক মাহবুবুর রহমানও আদালতে হাজির ছিলেন।
এ্যামি জবানবন্দিতে বলেন, আসামি জসিমকে আমি চিনি। আমাদের বাসায় যাওয়া-আসা ছিল তার। ২০১১ সালের ১৩ আগস্ট আমার বাবা জাহাঙ্গীরকে গলায় ফাঁস ও বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়।
তিনি বলেন, ঘটনার দিন আমার বাবা দুপুরের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন। এরপর আমাকে ও আমার ভাইকে নিয়ে মা প্রাইভেট পড়ার উদ্দেশে রওনা দেন। নিচে নেমে আমার মা বলেন, ময়লার গাড়ি আসবে তোমরা যাও। আমি গাড়িতে ময়লা দিয়ে তালা দিয়ে আসছি।
এরপর আমরা প্রাইভেট পড়তে চলে যাই। প্রাইভেট পড়া শেষ করে সুমি আপুর বাসায় গেলে সেখানে আমার মা যান। সেখান থেকে আমাদের নিয়ে আসার সময় মা সুমি আপুকে বলেন, তোর আঙ্কেলের শরীরটা বেশি ভালো যাচ্ছে না, তার বয়স হয়েছে। কাল হাসপাতালে নিয়ে যাবো। দোয়া করিস।
এ্যামি তার সাক্ষ্যে বলেন, আমরা বাসায় এসে আমি আব্বুকে ডাকাডাকি করি। কিন্তু আব্বু ওঠেন না। এরপর মা এসে আব্বুকে দেখে বলেন, তোর আব্বু স্ট্রোক করে মারা গেছে। আমি দ্রুত আঙ্কেলদের খবর দিতে যাই। তাদের মধ্যে একজন ডাক্তার ছিলেন। তিনি আমার সঙ্গে এসে আব্বুকে দেখে বলেন, গলায় লাল দাগ কেন? উত্তরে আম্মু জানান, দুপুরের খাবার থেকে হয়তো এলার্জি হয়েছিল। কিন্তু ডাক্তার আঙ্কেল বলেন, এটা এলার্জির দাগ নয়। গলায় ফাঁস দেওয়া দাগ। এরপর তিনি পুলিশ খবর দেন।
এ্যামি বলেন, পুলিশ আসার আগে আমার মা আমাদের শিখিয়ে দেন যে, পুলিশের পা ধরে যেন কান্নাকাটি করে বলি, আমার বাবার লাশ যেন কাটা-ছেঁড়া করা না হয়। পরে পুলিশ এসে আমার আব্বুর লাশ নিয়ে যায়। আম্মুকে গ্রেফতার করে।
এ্যামি আরও বলেন, আমার আব্বুর সঙ্গে আম্মু শুধু ঝগড়া করতেন। ঝগড়ার সময় আম্মু আব্বুকে মেরে ফেলার হুমকি দিতেন। আব্বু বাসায় না থাকলে জসিম আঙ্কেল প্রায়ই আমাদের বাসা আসতেন। জসিম আঙ্কেল এলে মা আমাদের দুই ভাই-বোনকে এক ঘরে আটকে রাখতেন। তারা এক ঘরে থাকতেন। জানালার ফাঁক দিয়ে আমরা উঁকি মেরে দেখার চেষ্টা করতাম। কিন্তু তাদের জানালায় পর্দা দেওয়া থাকায় কিছু দেখতে পেতাম না। আম্মু মারধর করবেন এ ভয়ে আব্বুকে কিছু বলতাম না আমরা। আমি আব্বু হত্যার বিচার চাই।
২০১১ সালের ১৩ আগস্ট বিমানবন্দর থানার কাওলার সিভিল এভিয়েশনের স্টাফ কোয়ার্টারে নিজ বাসায় খুন হন জাহাঙ্গীর।
তিনি পেশায় ড্রাইভার ছিলেন। এ ঘটনায় নিহতের খালাতো ভাই মো. আব্দুল লতিফ বিমানবন্দর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এজাহারে কারও নাম ছিল না। তদন্তে ঘটনার সঙ্গে স্ত্রী মুক্তা জাহান, তার পরকীয়া প্রেমিক জসিম ও জনৈক মাহবুবুর রহমান জড়িত থাকার বিষয়টি প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিমানবন্দর থানা পুলিশের এসআই আবু বকর সিদ্দিক তাদের গ্রেফতার করেন।
পরবর্তীতে ২০১৩ সালের ২৬ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়। আসামিরা সবাই জামিনে আছেন।
জেআই





