ব্লগার রাজিব হত্যার আসামিদের অভিযোগ, এই হত্যাকাণ্ডে জোর করে তাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আদায় করা হয়েছে। ঘটনা সম্পর্কে মামলার সাতজন আসামি কিছুই জানেন না বলেও আদালতের কাছে লিখিত ও মৌখিকভাবে দাবি করেন।
ঢাকার দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনাল-৩ এর বিচারক সাঈদ আহমেদের আদালতে মঙ্গলবার আত্মপক্ষ সমর্থন করে এ সব কথা বলেন তারা। তাদের বক্তব্য শেষে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপনের জন্য আগামী ২৪ ডিসেম্বর দিন ঠিক করা হয়েছে।
আত্মপক্ষ সমর্থন করে দেওয়া বক্তব্য মামলার আসামিরা বলেন, ব্লগার রাজিব কে তাও তারা জানেন না। শুধু তাই নয়, ঘটনার আগে তারা একে অপরকে চিনতেনও না।
আনসারুল্লাহ বাংলাটিমের প্রধান মুফতি জসীম উদ্দিন রাহমানী লিখিত ও মৌখিক বক্তব্যে বলেন, তাকে এ মামলায় আনসারুল্লাহ বাংলাটিমের প্রধান হিসেবে দেখানো হয়েছে। আনসারুল্লাহ বাংলাটিম নামে কোনো দল আছে কিনা— তা তিনি জানেন না।
মুফতি জসীম উদ্দিন রাহমানী বলেন, ‘চরমোনাই পীরের দলে যোগ না দেওয়ায় তাদের সঙ্গে আমার দ্বন্দ্ব ছিল। তারা শত্রুতা করে আমাকে ধরিয়ে দেন।’
মামলার আরেক আসামি এহসান রেজা রুম্মান বলেন, ‘নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির একটি মেয়ে নিখোঁজ হয়েছে বলে আমাকে ডিবি পরিচয় দিয়ে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। আমি ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানি না। আমাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেওয়া হয়।’
মামলার অপর আসামি নাফির ইমতিয়াজ বলেন, ‘নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি থেকে পরীক্ষা দিয়ে বাসায় যাওয়ার সময় দুই ব্যক্তি আমাকে সাদা মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। তারা আমাকে অমানুষিক নির্যাতন চালায়। ঘটনা সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। আর মামলার অপর আসামিদের আমি চিনি না।’
রাজীব হত্যা মামলায় ৫৫ সাক্ষীর মধ্যে এ পর্যন্ত ৩৫ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।
মামলার অভিযোগপত্র থেকে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বাসায় ফেরার পথে পল্লবীর কালশীর পলাশনগরে দুর্বৃত্তের হামলায় নিহত হন রাজীব। ওই ঘটনায় রাজীবের বাবা ডা. নাজিম উদ্দীন পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
২০১৪ সালের ২৯ জানুয়ারি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক নিবারণ চন্দ্র বর্মণ ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে ৫৫ জনকে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী করা হয়।
মামলার আট আসামি হলেন— নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফয়সাল বিন নাইম ওরফে দিপু (২২), মাকসুদুল হাসান অনিক (২৬), এহসানুর রেজা রুম্মান (২৩), মো. নাঈম সিকদার ওরফে ইরাদ (১৯), নাফির ইমতিয়াজ (২২), সাদমান ইয়াছির মাহমুদ (২০), মুফতি জসীম উদ্দিন রাহমানী ও রেদোয়ানুল আজাদ রানা (৩০)।
চার্জশিটভুক্ত আসামিদের মধ্যে রানা পলাতক রয়েছেন। অন্য আসামিরা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
এমএইচ
অপরাধ
ব্লগার রাজিব হত্যা মামলা: জোর করে স্বীকারোক্তি আদায়ের অভিযোগ আসামিদের
ব্লগার রাজিব হত্যার আসামিদের অভিযোগ, এই হত্যাকাণ্ডে জোর করে তাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আদায় করা হয়েছে।





