আদালতের অনুমতি ছাড়া কোনো ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ বা সম্পত্তি ক্রোক করার ক্ষমতা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নেই বলে পুর্ণাঙ্গ রায়েও জানিয়েছেন হাইকোর্ট।
গতকাল (২৫ আগস্ট) বুধবার বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চে পূর্ণাঙ্গটি রায়টি প্রকাশ করা হয়েছে।
গত জানুয়ারিতে দুদকের চট্টগ্রাম-২ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক শরীফ উদ্দিন কক্সবাজারের ব্যবসায়ী বেলায়েত হোসেনের ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করতে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের কক্সবাজার শাখার ম্যানেজারকে নির্দেশ দেন।
ওই নির্দেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন বেলায়েত। ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি শেষে গত ২৭ জুন সংক্ষিপ্ত রায় দেন আদালত। বিচারপতিদের স্বাক্ষরের পর বুধবার (২৫ আগস্ট) সুপ্রিমকোর্টের ওয়েবসাইটে ৮ পৃষ্টার পুর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়।
রায়ে বলা হয়েছে, সম্পত্তি ক্রোক বা ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করতে চাইলে দুদকের সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তাকে সিনিয়র স্পেশাল জজ বা বিচারিক আদালতে আবেদন করতে হবে। পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত সন্তষ্ট হয়ে আদেশ দিলে তখন ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ বা সম্পত্তি ক্রোক করার সুযোগ রয়েছে, এমনকি সেই সম্পত্তি যদি অপরাধলব্ধও হয়ে থাকে।
রায়ে আরও বলা হয়, দুদকের কোনো তদন্ত কর্মকর্তা কারো ব্যাংক হিসাব ফ্রিজের নির্দেশ দিতে পারেন না। কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে আদালতের আদেশে ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করার সুযোগ রয়েছে। রায়ে কপবাজারে বেলায়েতের ব্যাংক হিসাব ফ্রিজের নির্দেশ বেআইনি ও অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
রায়ে বলা হয়, দুদকের আইন ও বিধিতে কোনো অনুসন্ধান বা তদন্ত কর্মকর্তাকে এ ধরনের অপরাধলব্ধ সম্পত্তি ক্রোকের ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। ফলে এ মামলায় দুদকের সংশ্লিষ্ঠ কর্মকর্তা ব্যাংক হিসাব জব্দে যে চিঠি দিয়েছেন শুধু উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, এখতিয়ারবহির্ভূত ও বেআইনি। এটা ক্ষমতার অপব্যবহারও বটে।
এমবি
















