বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়ে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত থাকবে।

হাইকোর্টের জামিন আদেশ স্থগিত চেয়ে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষের করা লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) মঞ্জুর করে আপিল বিভাগের দেয়া আদেশে এ কথা বলা হয়েছে।

আজ (মঙ্গলবার) আদেশের কপি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

দুদকের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান জারিয়েছেন, আপিল বিভাগ দুই সপ্তাহের মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদককে আপিলের সারসংক্ষেপ আগামী রোববারের (৮ এপ্রিল) মধ্যে জমা দেয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছিলেন।  

৬ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ আদেশের অনুলিপিতে এসব কথা লিখিছেন আপিল বিভাগের বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী। এতে একমত পোষণ করে প্রধান বিচারপতি’সহ অন্যরা স্বাক্ষর করেছেন। আদেশের কপিতে অন্য বিচারপতিরা হলেন- বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার।

গত ১৯ মার্চ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদককে আপিলের অনুমতি দেন আপিল বিভাগ। দুই সপ্তাহের মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদককে এবং পরবর্তী দুই সপ্তাহের মধ্যে আসামিপক্ষকে আপিলের সারসংক্ষেপ জমা দেয়ার জন্য নির্দেশ দেন আদালত। একইসঙ্গে এ আপিল শুনানির জন্য ৮ মে দিন ধার্য করে হাইকোর্টের দেয়া জামিনের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ।

প্রকাশিত আদেশে আদালত আরও বলেছেন, জামিন দিয়ে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি চাওয়া হয়েছে। সেটা মঞ্জুর করার মতো কারণ (মেরিট) আমরা পেয়েছি। তাই দুটি আপিলের অনুমতি দেয়া হলো। এবং আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হাইকোর্টের আদেশটি স্থগিত করা হলো। আদেশে আরও বলেন, আপিলকারীদের দুই সপ্তাহের মধ্যে মামলার সার সংক্ষেপ জমা দিতে বলা হলো।

এদিকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, আপিল বিভাগ দুই সপ্তাহের মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদককে আপিলের সারসংক্ষেপ জমা দেয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছিলেন। আমরা আগামী রোববারের (৮ এপ্রিল) মধ্যে আপিলের সারসংক্ষেপ জমা দিতে হবে।

উল্লেখ্য, গত ১২ মার্চ খালেদা জিয়াকে হাইকোর্ট চার মাসের অন্তবর্তীকালীন জামিন দেন। পরে আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতে তা স্থগিত চেয়ে আবেদন করেন রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদক। ওই দিন আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর জামিন আদেশ স্থগিত না করে আবেদন দুটি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন।

১৪ মার্চ চার মাসের জামিন দিয়ে হাইকোর্টের দেয়া আদেশ ১৮ মার্চ পর্যন্ত স্থগিত করেন আপিল বিভাগ। ওই সময়ের মধ্যে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষকে নিয়মিত আপিলের আবেদন (লিভ টু আপিল) করার নির্দেশ দেন সর্বোচ্চ আদালত। পরে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, লিভ টু আপিল দায়ের করে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষ।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বকশিবাজার আলীয়া মাদ্রাসায় স্থাপিত ৫নং বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেয় আদালত। এবং তারেক রহমান’সহ বাকি ৫ আসামিদের ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড’সহ ২ কোটি ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা করে আদালত। রায়ের দিন আদালত ৬৩২ পৃষ্ঠার রায়ের সারসংক্ষেপ পড়া হয়। রায়ের অনুলিপি ১ হাজার ১৭৪ পৃষ্ঠার।

রায়ের পরপরই খালেদা জিয়াকে নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয়। নির্জন কারাগারের একমাত্র বন্দি হিসেবে বেগম জিয়া সেখানেই আছেন।

খালেদা জিয়া ছাড়া এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন- বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, হলেন মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সলিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান। রায়ে তারেক রহমান, শরফুদ্দীন আহমেদ ও মমিনুর রহমানকে পলাতক দেখানো হয়েছে।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া, তারেক রহমান’সহ ৬ জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

২০১০ সালের ৫ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপপরিচালক হারুন-আর রশিদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।

এমবি