জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারকৃত বিএনপি নেতা রাশেদ উন নবী বিপ্লব ও যুবদল নেতা নওশাদ হোসেন রুবেলের জামিন আবেদন ফের নামঞ্জুর করেছেন আদালত।
সোমবার রংপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাক আহাম্মেদ তাদের জামিন নামঞ্জুর করেন।
এর আগে ২৩ ফেব্রুয়ারি জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মঞ্জুরুল বাসিত স্বাস্থ্যগত কারণে বিপ্লবের এক মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করলেও পরের দিন তা বাতিল করা হয়।
গত বছরের ৩ অক্টোবর রংপুর নগরীর অদূরে কাউনিয়ার আলুটারি গ্রামে জাপানি নাগরিক কুনিও হোশিকে গুলি করে হত্যা করে তিন দুর্বৃত্ত। হত্যার পরপরই কুনিওর ব্যবসায়িক অংশীদার হুমায়ুন কবির হিরাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাকে দুই দফায় ১৫ দিন রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে পুলিশ আরেকটি হত্যা মামলায় হিরাকে আবারও গ্রেপ্তার দেখিয়ে ১০ দিনের রিমান্ডে নেয়। পরে হিরা ২৮ অক্টোবর আদালতে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জবানবন্দি দেন। তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি তিনি জানতেন। এ ছাড়াও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন তিনি।
অপরদিকে এ মামলায় বিএনপি নেতা হাবিব উন নবী খান সোহেলের ছোট ভাই রাশেদ উন নবী খান বিপ্লবকে রংপুরের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকেও ১০ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। কিন্তু রিমান্ড শেষ হওয়ার আগেই বিপ্লবকে কারাগারে পাঠায় পুলিশ। এদিকে
গত ১২ নভেম্বর রংপুর মহানগর যুবদলের সদস্য রাজিব হাসান সুমন ওরফে মেরিল সুমন, যুবদলের সদস্য জুম্মাপাড়ার নওশাদ হোসেন রুবেল ওরফে কালা রুবেল এবং শালবন এলাকার কাজল চন্দ্র বর্মণ ওরফে ভরসাকে র্যাব সদস্যরা চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করে। তাদেরকে কুনিও হত্যার আসামি দেখিয়ে রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ড শেষে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
এরপর হঠাৎ করেই কুনিও হত্যায় নতুন তথ্য যোগ হয়। রংপুরের পীরগাছা থেকে জেএমবির সামরিক শাখার নেতা মাসুদ রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে গত বছরের ৭ ডিসেম্বর ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে কুনিও হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বর্ণনাও দেন মাসুদ রানা। মাসুদ রানা কীভাবে কুনিওকে হত্যা করেছেন, কারা কারা তার সঙ্গে ছিল, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল কারা সরবরাহ করেছে এসব তথ্য তিনি জবানবন্দিতে জানান।
জবানবন্দিতে রানা জানান, তিনি নিজেই কুনিওকে গুলি করে হত্যা করেন। তার সঙ্গে এছাহাকসহ আরো একজন ছিল। তার নামও তিনি জানান। এ ছাড়া গত বছরের ১০ নভেম্বর রংপুরের কাউনিয়ায় মাজারের খাদেম আওয়ামী লীগ নেতা রহমত আলীকে জবাই করে হত্যার দায়ও স্বীকার করেন। তিনি নিজেই তাকে জবাই করেছেন বলে জানান। এ ঘটনার পর হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিও তার বাড়ি থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। এ ছাড়াও রংপুরে বাহাই সম্প্রদায়ের নেতা রুহুল আমিনকে গুলি করার কথাও জানান তিনি। এ ঘটনার পর রংপুর রেঞ্জের পুলিশের ডিআইজি হুমায়ুন কবীর সাংবাদিক সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিকভাবে কুনিও ও আওয়ামী লীগ নেতা হত্যাসহ দিনাজপুরের সব ঘটনার জন্য জেএমবিকে দায়ী করে। তারাই এসব হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে জানায়।
আসামিপক্ষের আইনজীবী আফতাব হোসেন বলেন, জেএমবির দুই জঙ্গি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর এটা স্পষ্ট যে, এসব ঘটনার সঙ্গে বিএনপির কেউ জড়িত নেই। তার পরেও বিএনপি নেতা-কর্মীদের এই মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।
এমআইএস।





