বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা সকল স্থাপনা আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। আদেশে শ্যামবাজার, কদমতলী ও বীনা স্মৃতি (ওয়াইজঘাট) এলাকা থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে নদীর তীর অবৈধ দখলমুক্ত রাখতে তিন মাস পর পর ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করতে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল রোববার এ আদেশ দেন।

আদালতের নির্দেশ প্রতিপালনে কি কি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা আগামী ৯ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন আকারে অবহিত করতে ঢাকা জেলা প্রশাসক, ডিএমপি কমিশনার এবং কোতয়ালি,. শ্যামপুর ও সুত্রাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি), পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বুড়িগঙ্গাসহ ঢাকার আশে-পাশে বহমান চার নদীর তীর হতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দিয়ে ২০০৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট এক রায় দেন। ওই রায়ে ২০১০ সালের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দেওয়া হয়। একইসঙ্গে ২০১১ সালের ৩১ মে’র মধ্যে নদীর তীরে গাছ লাগানো ও চলাচলের পথ তৈরির নির্দেশ দেয়া হয়। এরপরও বিভিন্ন সময়ে উচ্চ আদালতের দেওয়া নির্দেশ যথাযথভাবে প্রতিপালন না হওয়ায় বিসয়টি উচ্চ আদালতের নজরে এনেছে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ।

সংগঠনের পক্ষে অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ ও  রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু শুনানি করেন। শুনানি শেষে হাইকোর্ট অন্তবর্তিকালীন আদেশের পাশাপাশি রুল জারি করে। রুলে সংশ্লিষ্ট এলাকা থেকে অবৈধ স্থাপনা অপসারণের কেন নির্দেশ দেয়া হবে না তার কারণ জানতে চাওয়া হয়েছে।

পরিবেশ ও নৌ-পরিবহন সচিব, বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ঢাকা জেলা প্রশাসক, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার এবং কোতয়ালী, শ্যামপুর ও সুত্রাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) সংশ্লিষ্টদের দুই সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

জেআই