রাজধানীর নীলক্ষেতে ফাঁকা জায়গায় ছাদের উপর ছাদ দেখিয়ে ১১২টি দোকান অস্থায়ী বরাদ্দের নামে শত কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগে ঢাকা দক্ষিনের সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সাবেক প্রশাসক মো. খলিলুর রহমান ও কানুনগো মো. আলীসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা করবে দুদক।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের অনুমোদনের আবেদনসহ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার দফতরে জমা দেয়া হয়েছে। শিগগিরই কমিশনের অনুমোদন নিয়ে থানায় মামলা দায়ের করবেন দুদকের অনুসন্ধানী কর্মকর্তা।
অভিযুক্ত ৮ জন হলেন, ডিএসসিসির সাবেক প্রশাসক মো. খলিলুর রহমান, কানুনগো মো. আলী, সাবেক প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. বিল্লাল হোসেন, সাবেক সম্পত্তি কর্মকর্তা দিদারুল আলম, সার্ভেয়ার মুরাদ হোসেন, সার্ভেয়ার সৈয়দ রুমান এবং নীলক্ষেতের এ অবৈধভাবে নির্মিত মার্কেটের দোকার-মালিক সমিতির সভাপতি একেএম শামসুদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন।
অভিযুক্ত কর্মকর্তারা নিলক্ষেত এলাকায় অস্থায়ীভাবে ১৫ টাকা বর্গফুট ভাড়া নির্ধারণ করে ১১২টি দোকান ব্যবসায়ীদের নিজ খরচে ছাদের উপর ছাদ অর্থাৎ ৪ তলা পাকা মার্কেট বরাদ্দ দিয়ে প্রয়া ১০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়।
আর এ অভিযোগ ডিএসসিসির পৃথকভাবে তদন্ত করেছে। ডিএসসিসির তদন্তেও ওই ৮ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ রয়েছে। কিন্তু ডিএসসিসির বর্তমান প্রশাসন এ বিষয়ে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ না নিয়ে দুদকের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন ।
জানা যায়, ২০১৩ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ডিএসসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আবদুল্লাহ আল হারুনকে আহবায়ক এবং প্রধান আইন কর্মকর্তা মো. মফিজুল ইসলামকে সদস্য সচিব করে ৫ সদস্যের একটি কমিটি এ জালিয়াতির বিষয়টি তদন্ত করেন।
এ কমিটির অপর সদস্যরা হলেন, বাজার সার্কেলের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ, উপ প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মো. ইউসুফ আলী সরদার, সহকারী আইন কর্মকর্তা এসএমকরীম খান।
এ কমিটির কর্মকর্তারা ২০১৩ সালে ৩ এপ্রিল প্রশাসকের দফতরে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। একই সঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদনের অনুলিপি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা,সচিব এবং দদেকের চেয়ারম্যানের দফতরসহ সংশ্লিষ্ট দফতরে জমা দেন। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে ৮ জালিয়াতির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য ফৌজদারি এবং বিভাগীয় মামলার সুপারিশ রয়েছে। কিন্তু গত এক বছরে ডিএসসিসিও রহস্যজনক কারণে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি এবং বিভাগীয় মামলা দায়ের করেনি।
ডিসিসিসির তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জালিয়াতির মাধ্যমে নীলক্ষেত লেপতোষকের মাকের্টের ছাদ এবং সংলগ্ন প্রায় সোয়া এক বিঘা জমিতে ৪ তলা পর্যন্ত ছাদের উপর ছাদ নির্মাণ করে নেয়ার জন্য ব্যবসায়িদের অস্থায়ী ১১২টি দোকান বরাদ্দ দেয়া হয়। আর এ ১১২ টি দোকানের আবেদনকারীদের নামের তালিকায় মাত্র ১০/১৫ জনই স্বাক্ষর করেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়,২০১২ সালে ১ এপ্রিল সাবেক আইনপ্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামের সুপারিশ সম্বলিত একটি আবেদন পত্রের উপর ভিত্তি করে ১৪ এপ্রিল কানুনগো মো. আলী ১১২টি দোকান বরাদ্দের পক্ষে প্রশাসকের নির্দেশ রয়েছে বলে নথি সম্পত্তি বিভাগে উপস্থাপন করেন। ওই নথিতে সার্ভেয়ার সৈয়দ রুমান, সার্ভেয়ার মো. মুরাদ হোসেন ১৯ এপ্রিল দোকান বরাদ্দের প্রস্তাবের পক্ষে মতামত দেন।
২৩ এপ্রিল সম্পত্তি কর্মকর্তা দিদারুল আলম এবং ৩০ এপ্রিল প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা বিল্লাল হোসেন বরাদ্দের পক্ষে নীতিগত সিদ্ধান্তের প্রয়োজন মন্তব্য করেন। পরে তৎকালীন প্রশাসক মু. খলিলুর রহমান ২০১২ সালে ১০ মে লিখিতভাবে ১১২টি দোকান বরাদ্দের নির্দেশ দেন।
তার নিদের্শে ১১২টি দোকানের মধ্যে প্রথম তলায় দোকান (নং-৫০/১-৮৪) ৩৮টি, প্রথম তলার ছাদে দোকান (নং ১-৩৭) ৩৭টি, দ্বিতীয় তলার ছাদে দোকান (নং-১-৩৭) ৩৭টি রয়েছে। দোকান বরাদ্দের অনুলিপি সংশ্লিষ্ট ১৬ কর্মকর্তাকে প্রদানের কথা থাকলেও বাস্তবে কাউকে অনুলিপি দেয়া হয়নি। দুদকের অনুসন্ধানেও্ সেববিষয়গুলো বেরিয়ে এসেছে। তবে মামলা দায়েরের পর তদন্তে আরো অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসবে। একই সঙ্গে আসামির সংখ্যাও বাড়তে পারে বলে জানান দুদকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
একে/এসএইচ





