আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে নিম্নমানের গুঁড়োদুধ আমদানি এবং কোটি কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকি দিয়ে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামালকে জিজ্ঞসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
আজ সোমবার বিকেল সোয়া ৩ টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪ টা পর্যন্ত দুদকের উপ-পরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। ওই সময় মেঘনা গ্রুপের সহযোগি প্রতিষ্ঠান ‘তানভীর ফুড লিমিটেডের’এমডি এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা দুদকে উপস্থিত ছিলেন।
দুদক কর্মকর্তা মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যানএবং তানভির ফুড লিমিটেডের এমডি মোস্তফা কামালের কাছে জানতে চেয়েছেন , বিদেশ থেকে কবে ,কি পরিমান, কত টাকার গুড়োদুধ আমদানি করেছেন। এর সপক্ষে এলসি, ব্যাংকের কাগজপত্রসহ আনুসঙ্গিক রেকর্ডপত্রের সত্যায়িত কপি চেয়েছেন।
একই সঙ্গে জানতে চেয়েছেন কমমূল্য দেখিয়ে শুল্ক ফাঁকি দেয়া হয়েছে কেন । এছাড়া নিম্নমানের গুড়ো দুধ আমদানির বিষয়েও জ্ঞিাসাবাদ করা হয় বলে জানা যায়।
এদিকে অভিযোগ রয়েছে, গত ২০০৯ ও ২০১০ সালে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার শুল্ক থেকে বঞ্চিত হয়েছে সরকার। ওই ২ বছরে বিশ্ববাজারে প্রতি মেট্রিকটন গুঁড়োদুধের মূল্য ছিল ৩ হাজার ৭০০ ডলার থেকে ৩ হাজার ৮০০ মার্কিন ডলার।
এক্ষেত্রে কাস্টমস কর্মকর্তাদের যোগসাজশে প্রতি টন ২ হাজার ৪০০ ডলার মূল্য দেখিয়ে হাজার হাজার টন গুঁড়োদুধ আমদানি করা হয়েছে। আর বাংলাদেশে আমদানিকৃত দুধের প্রায় ৭০ ভাগ আসে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ডেনমার্ক ও সুইজারল্যান্ড থেকে।
অভিযোগ রয়েছে ,তানভীর ফুড লিমিটেডসহ অন্যান্যপ্রতিষ্ঠানগুলো কৌশল হিসেবে প্রতি মেট্রিকটন গুঁড়োদুধের জন্য এক থেকে দেড় হাজার ডলার রফতানিকারক দেশগুলোতে হুন্ডির মাধ্যমে পাঠিয়। ২০১১ সালের ১১ জুলাই ভ্যালুয়েশন রিপোর্ট অনুসারে এক টন গুঁড়োদুধ আমদানি করতে ডানো ব্রান্ড ব্যয় করেছে ৪ হাজার ৪০০ ডলার। অথচ একই সময় তানভীর ফুড লিমিটেড ফ্রেস গুঁড়োদুধ আমদানি করতে ব্যয় হয় মাত্র ২ হাজার ৭০০ ডলার।
আরো অভিযোগ রয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার ইকোভাল ডেইরি ট্রেডের তথ্যানুসারে ২০১১ সালের ২১ জুলাই বাংলাদেশের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রতি মেট্রিকটন গুঁড়োদুধে মূল্য উল্লেখ করেছে ৩ হাজার ৭৯০ ডলার। অথচ একই সময় তানভীর ফুড লিমিটেপকে সরবরাহকরা প্রতি মেট্রিকটন গুঁড়োদুধের মূল্য নিচ্ছে বওে উল্লেখ্য করেছে ২ হাজার ৪৮০ ডলার।
এক্ষেত্রে প্রতি মেট্রিকটনে আন্ডার ইনভয়েসিং হয়েছে ১ হাজার ৩১০ ডলার। অর্থাৎ প্রতি ৫০ মেট্রিকটনে ৬৫ হাজার ৫০০ ডলার পাচার করছে।
একে/এসএইচ





