মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মীর কাশেম আলীর বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের ২০ তম সাক্ষী আলহাজ্জ লুৎফর রহমান ফারুক ট্রাইব্যুনালে সাক্ষী দিতে গিয়ে বলেন-আমাকে ইলেকট্রিক শক দেওয়ার পর লাশের স্তুপের মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়েছিল।
বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যর বেঞ্চে এ সাক্ষ্য গ্রহন করা হয়। সাক্ষ্য গ্রহন অব্যাহত অবস্থায় আদালত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কার্যক্রম মুলতুবি রাখেন ।
আসামিপক্ষের আইনজীবী মিজানুল ইসলাম। এ সময় প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সীমন ও রেজিয়া সুলতানা চমন ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় আমার বয়স ছিল ২২ বছর। আমি বিএসসি পাশ করেছি। বর্তমানে অবসর জীবন-যাপন করছি। ১৯৭০ সালে জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে আমি বঙ্গবন্ধুর সমর্থনে নির্বাচনে কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করি।১৯৭১ সালে ২৫ মার্চ গভীর রাতে বঙ্গবন্ধু ওয়ারলেসের মাধ্যমে স্বাধীনতা ঘোষণা করলে এবং তা চট্টগ্রামে ২৬ মার্চ সকালে মাইকযোগে প্রচারিত হওয়ার পর আমরা স্বাধীনতার পক্ষে সংগঠিত হতে শুরু করি। ২৬ মার্চ,১৯৭১ সালে চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা এম এ হান্নান কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা করেন। ২৭ মার্চ,১৯৭১ আমরা চট্টগ্রাম শহরে টিকতে না পেরে জনৈক সৈয়দ ভাইয়ের নেতৃত্বে চট্টগ্রামের বিভিন্ন গ্রামে আশ্রয় গ্রহণ করি এবং গ্রামের লোকজনদেরকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সংগঠিত করি।
সৈয়দ ভাই আমাদেরকে রেখে ভারতে চলে যান এবং মাস তিনেক পরে তিনি ভারত থেকে চট্টগ্রাম শহরে ফিরে আসেন। এক পর্যায়ে আমরা তার সাথে দেখা করলে তিনি বলেন মুক্তিবাহিনীরা চট্টগ্রাম শহরে অবস্থান নিবে তাদের জন্য আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। তারই নির্দেশনা অনুযায়ী চট্টগ্রাম শহরে আমার বাড়ি,হাজী নূর আলী সওদাগরের আয়েশা মঞ্জিলে এবং সোনা মিয়া সওদাগরের বাড়ীতে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আশ্রয়ের ব্যবস্থা করি।
১৯৭১ সালে ১৯ নভেম্বর চট্টগ্রাম শহরে মুক্তিবাহিনীর অবস্থান সম্পর্কে জানতে পেরে আল-বদর,আল-সামস ও পাকিস্তানী সেনাবাহিনী বেলা সাড়ে ৩টার দিকে আশ্রয়স্থল ঘেরাও করে ফেলে। ওই সময় সৈয়দ ভাই চট্টগ্রাম শহরের যে আশ্রয়স্থলে অবস্থান করছিলেন সেখানে আমি,মনসুরুল হক চৌধুরী,আবুল কালাম ও মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ বসে কথা বলছিলাম। সৈয়দ ভাইয়ের বাড়ি এবং আমাদের বাড়ির লাগ পশ্চিমে। এ সময় বাড়ির বাহির থেকে মা আমাকে ডাক দেন। আমি দরজা খুলে দেখতে পাই আল-বদর ও পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর সদস্যরা আমাদের বাড়ীর সামনে এ্যাম্বুলেন্সে করে আসে। তখন আমি এবং সিরাজ সৈয়দ ভাইয়ের বাড়ির পেছন দিক দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে ‘হ্যান্ডস আপ’ এই আওয়াজ শুনতে পেয়ে দাঁড়িয়ে গেলাম। আমাদের সঙ্গী আবুল কালাম বাড়ির প্রাচীর টপকিয়ে পুকুরে ঝাপ দিয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় তাকে উদ্দেশ্য করে গুলি করা হলে তার গায়ে লাগেনি। আমাকে এবং সিরাজকে তখন ধরে ডালিম হোটেলে নিয়ে যায়।
ডালিম হোটেলে গিয়ে দেখি দাড়িওয়ালা এক মৌলভী সাহেব বসে আছেন এবং ইসলামী ছাত্র সংঘের সভাপতি মীর কাশেম আলী বসে আছেন। ডালিম হোটেলে গিয়ে দেখতে পাই আরো অনেক লোকের হাত,পা এবং চোখ বাধা। মীর কাশেম আলীর নির্দেশে আল-বদর সদস্যরা আমারও চোখ ও হাত বেধে ফেলে। রাতে আল-বদর সদস্যরা আমাকে হোটেলের একটি কামরায় নিয়ে মীর কাশেম আলীর নির্দেশে একটি ইলেকট্রিক ওয়ার দিয়ে সারারাত পিটায় এবং আমার কাছ থেকে জানতে চায় মুক্তিযোদ্ধারা কোথায়। নির্যাতনের এক পর্যায়ে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি।
পরে ফতেহ আলী শাহের কাছ থেকে জানতে পারি আমাকে ইলেকট্রিক শক দেওয়ার পর লাশের স্তুপের মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। ফতেহ আলী শাহ আমাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে তার রুমে এনে ইনজেকশন দিয়ে আমার জ্ঞান ফিরিয়ে আনেন। ফতেহ আলী শাহ মিলিটারী ডাক্তার ছিলেন।
১৬ ডিসেম্বর,১৯৭১ মুক্তিযোদ্ধারা আমাকে চট্টগ্রাম কারাগার থেকে মুক্ত করে নিয়ে আসে।
[b]ঢাকা, কেএ, এপ্রিল (টাইম নিউজ বিডি) // জেএ[/b]
অপরাধ
আমাকে লাশের স্তুপে ফেলে দেওয়া হয়েছিল
মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মীর কাশেম আলীর বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের ২০ তম সাক্ষী আলহাজ্জ লুৎফর রহমান ফারুক ট্রাইব্যুনালে সাক্ষী দিতে গিয়ে বলেন-আমাকে ইলেকট্রিক শক দেওয়ার পর লাশের স্তুপের





