উচ্চ আদালতে মামলার জট কমানোসহ স্বাধীন বিচার বিভাগের মর্যাদা রক্ষায় বেশকিছু পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানালেন নবনিযুক্ত প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা (এস কে সিনহা)।

রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের এক নম্বর আদালত কক্ষে সংবর্ধনা শেষে এক বক্তব্যে তিনি এ আশার বাণী শোনান।

উচ্চ আদালতে মামলার জট কমানো, ছুটি কমানো, ‍অধ:স্তন আদালত নিয়ন্ত্রণ, সিনিয়র বিচারপতিদের গুরুত্ব দিয়ে বেঞ্চ গঠনসহ বেশকিছু পদক্ষেপের কথা বলেছেন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা।

এর আগে নবনিযুক্ত প্রধান বিচারপতিকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এ সময় উভয় বিভাগের বিচারপতিরা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া সংবর্ধনায় অংশ নেন, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সমিতির সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন, সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, ব্যারিস্টার রফিক-উল হক, এম আমীর-উল ইসলাম, সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ, আজমালুল হোসেন কিউসি, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী, এম আই ফারুকীসহ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীবৃন্দ।

সংবর্ধনা শেষে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা তার বক্তব্যে বলেন, ‍আমি তাড়াহুড়ো করে কিছু করিনি। আমি শুধু সম্মান দিয়ে আপিলে বিভাগের একটি বেঞ্চ গঠন করেছি।

তিনি বলেন, সিনিয়র বিচারপতিদের সঙ্গে কথা বলে হাইকোর্ট বিভাগের বেঞ্চ গঠন কর‍া হবে।

উচ্চ আদালতের ছুটি কমানোর বিষয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, এখন থেকে ১০ বছর আগে জাজ থাকা অবস্থায় ছুটি কমানোর প্রস্তাব করেছিলাম। কিন্তু তখন একজন মাত্র বিচারক আমার প্রস্তাব সমর্থন করেছিলেন।

উচ্চ আদালতে দীর্ঘ ছুটির বিষয়টি বৃটিশ ঔপনিবেশিক নিয়মে চলছে বলেও উল্লেখ করেন সদ্য নিযুক্ত হওয়া এই প্রধান বিচারপতি।

যারা উচ্চ আদালতে প্রাকটিস (চর্চ্চা) করেন না, আইনজীবী হিসেবে তাদের সনদ বাতিল হওয়া দরকার অ্যাটর্নি জেনারেলের এ বক্তব্যে উত্তরে প্রধ‍ান বিচারপতি এস কে সিনহা বলেন, এটা বার কাউন্সিলের কাজ। বার কাউন্সিল এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

গত শনিবার দেশের ২১তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা (এস কে সিনহা)।

শনিবার সকাল ১১টা ৫ মিনিটে বঙ্গভবনে এস কে সিনহাকে শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

শপথ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ, সদ্য বিদায়ী প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন, সাবেক প্রধান বিচারপতিগণ, মন্ত্রিপরিষদ সদস্যগণ, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিব উদ্দীন আহমদ, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমসহ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।

শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূঁইঞা।

গত সোমবার (১২ জানুয়ারি) প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি এস কে সিনহা।

তিনি বিচারপতি মোজাম্মেল হোসেনের স্থলাভিষিক্ত হলেন।

বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বাড়ি মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জের আলীনগর ইউনিয়নের তিলকপুর গ্রামে। তার বাবা প্রয়াত ললিত মোহন সিনহা ও মা ধনবতী সিনহা।

বিচারপতি এস কে সিনহা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এলএলবি পাস করার পর ১৯৭৪ সালে সিলেট জেলা জজ আদালতে অ্যাডভোকেট হিসেবে কাজ শুরু করেন। এরপর ১৯৭৮ সালে হাইকোর্টে এবং ১৯৯০ সালে আপিল বিভাগে আইনজীবী পেশায় আত্মনিয়োগ করেন তিনি।

১৯৯৯ সালের ২৪ অক্টোবর তিনি হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। ২০০৯ সালের ১৬ আগস্ট তাকে আপিল বিভাগে বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

বিচারপতি এস কে সিনহা বর্তমানে জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশনেরও চেয়ারম্যান।

এএইচ