কেমিকেল রিপোর্ট না আসায় যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে আদালতে পুনঃময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা দেয়া যায়নি।
তবে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে সিভিল সার্জনের মাধ্যমে আংশিক প্রতিবেদন প্রেরণ করা হয়েছে। এ রিপোর্ট আদালতের মাধ্যমে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকার সিআইডির এএসপি মুন্সী রুহুল কুদ্দুসও পেয়েছেন। তবে এ প্রতিবেদনে ‘হত্যা’ না ‘আত্মহত্যা’ সে বিষয়ে মতামত দেয়া হয়নি।
এদিকে, পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট পাঠাতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন পুনঃময়নাতদন্ত মেডিকেল টিমের সদস্য যশোর মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রভাষক ডা. হুসাইন সাফায়েত।
অপরদিকে, মামলা ও তদন্ত সংক্রান্ত সার্বিক বিষয় নিয়ে ‘নিহত’ ডা. সুমির বাবা প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম আগামী শনিবার প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন করবেন।
গত ১৩ নভেম্বর রাজধানীর ধানমণ্ডির বাসায় ‘নিহত’ হন যশোর-৫ আসনের সাবেক এমপি খান টিপু সুলতানের পুত্রবধূ ডা. শামারুখ মাহজাবিন সুমি। এ ঘটনায় ডা. সুমির বাবা প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম মেয়ের শ্বশুর খান টিপু সুলতান, শাশুড়ি ও স্বামীর বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ এনে ধানমণ্ডি থানায় মামলা করেন। আর ঢাকা লাশ ১৪ নভেম্বর রাতে যশোর এনে শহরের কারবালা কবরস্থানে লাশ দাফন করা হয়।
অপরদিকে, গত ২৩ নভেম্বর ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে পুনঃময়নাতদন্তের আবেদন করেন ডা. সুমির বাবা প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম। বিষয়টি আমলে নিয়ে ঢাকা মূখ্য মহানগর হাকিম ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে লাশ উত্তোলন করে পুনঃময়নাতদন্ত প্রতিবেদন জমাদানের নির্দেশ দেন। এ নির্দেশ পেয়ে তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকার সিআইডির এএসপি মুন্সী রুহুল কুদ্দুসের উপস্থিতিতে ৪ ডিসেম্বর লাশ উত্তোলন করা হয়। এসময় সুমির শরীর ও কবর থেকে ১১টি আলামত সংগ্রহ করা হয়। এছাড়া ৪টি এক্সরে করা হয়। আর আলামত পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য মহাখালি ফরেন্সসিক সাইন্স এন্ড ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়। কিন্তু সেখান থেকে রিপোর্ট যশোর মেডিকেলে না আসায় নির্দিষ্ট সময়ে আদালতে পুনঃরায় ময়নাতদন্ত রিপোর্ট দেয়া সম্ভব হয়নি।
ডা. সুমির লাশ পুনঃময়নাতদন্ত মেডিকেল টিমের সদস্য যশোর মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রভাষক ডা. হুসাইন সাফায়েত জানান, ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে ঢাকা থেকে কেমিকেল রিপোর্ট আসেনি। তাই যশোর মেডিকেল কলেজ থেকে সিভিল সার্জনের মাধ্যমে প্রাথমিক একটি অগ্রগতি প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকার সিআইডির এএসপি মুন্সী রুহুল কুদ্দুস জানান, নির্ধারিত সময়ে কেমিকেল রিপোর্ট না আসায় আদালতে আংশিক প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়েছে। যেটি আদালত থেকে তিনি পেয়েছেন।
জেএ





