সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের এফিডেভিট শাখার সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বদলি করা হয়েছে।

এফিডেভিট শাখার অনিয়ম নিয়ে প্রধান বিচারপতির সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের ক্ষোভ প্রকাশের পরদিনই বদলির বিষয়টি জানা যায়।

এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবর বলেন, ‘এফিডেভিট শাখার কিছু অনিয়মের বিষয়ে নজরে আসার পর এ শাখার সব কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। পরে অভিযোগ অনুসন্ধান করে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এদের সংখ্যা কত—জানতে চাইলে রেজিস্ট্রার জেনারেল বলেন, ‘এটা এ মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না। তবে সবাইকে বদলি করা হয়েছে।’

এর আগে গতকাল একটি মামলার শুনানিকালে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেছেন, সুপ্রিম কোর্টের এফিডেভিট শাখায় সিসি ক্যামেরা বসানোর পরও অনিয়ম বন্ধ করা যাচ্ছে না। পরে সুপ্রিম কোর্টের ডেপুটি রেজিস্ট্রারকে ডেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আদালত।

এ সময় আদালতে নির্ধারিত মামলার শুনানি করতে গিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আদালতকে বলেন, ‘একটি মামলা আজ (সোমবার) তিন নম্বর সিরিয়ালে (আপিল বিভাগের কার্যতালিকায়) থাকার কথা।

কিন্তু অদৃশ্যভাবে তা ৮৯ নম্বর সিরিয়ালে গেছে।’ কীভাবে গেল, তা আপিল বিভাগের কাছে জানতে চান তিনি।

এ সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘সিসি ক্যামেরা বসালাম (এফিডেভিট শাখা কক্ষে), এখন সবাই বাইরে এসে এফিডেভিট করে। সিসি ক্যামেরা বসিয়েও অনিয়ম রুখতে পারছি না।’

তখন অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘অনেকেই মামলার তালিকা ওপর-নিচ করে কোটিপতি হয়ে গেছে।’

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘রাষ্ট্রপক্ষের অনেক আইনজীবীও আদালতে আসেন না। বেতন বেশি হওয়ার কারণে এমন হচ্ছে। বেতন কম হলে তারা ঠিকই কষ্ট করে আদালতে আসতেন।’

এরপর প্রধান বিচারপতি তাৎক্ষণিক এক আদেশে ডেপুটি রেজিস্ট্রার মেহেদী হাসানকে আপিল বিভাগে তলব করেন।

তবে মামলার সিরিয়াল করা নিয়ে মেহেদী হাসানের ব্যাখ্যায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ। পরে ডেপুটি রেজিস্ট্রারকে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি।

গতকাল মাহমুদ হোসেন বলেন, ‘সিসি ক্যামেরা বসালাম (এফিডেভিট শাখা কক্ষে), এখন সবাই বাইরে এসে এফিডেভিট করে।’ তখন অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, অনেকেই মামলার তালিকা ওপর নিচ করে কোটিপতি হয়ে গেছে।

 

এএস