মাটিরাঙ্গায় যাত্রীবাহী বাস থেকে স্বামীর সামনেই স্ত্রীকে অপহরণ করলো পাহাড়ী সন্ত্রাসীরা।
খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গায় এবার স্বামীর সামনে থেকেই স্ত্রী অপহরনের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে মাটিরাঙ্গার বাইল্যাছড়ির সাইনবোর্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালের ডিসেম্বরে
পানছড়ির লোগাং বাজার পাড়ার মনতাজ মিয়ার ছেলে মো. নাজমুল হোসেন ভালোবেসে বিয়ে করে বজেন্দ্র মাষ্টার পাড়ার ফলেন্দ্র ত্রিপুরার মেয়ে নয়না ত্রিপুরাকে। বিয়ের পুর্বেই স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে নয়না ত্রিপুরার নাম রাখা হয় ফাতেমা বেগম। বিয়ের দীর্ঘ পাঁচ বছর পার করার পর এক সন্তানের জননী উপজাতী স্ত্রীকে স্বামীর সামনেই বাস থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গেছে পাহাড়ী সন্ত্রাসীরা।
স্ত্রী ফাতেমা বেগম কে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় স্বামী নাজমুল হোসেন জানান, ঈদের ছুটি শেষে স্ত্রীসহ বাসযোগে চট্টগ্রামে নিজ কর্মস্থলে যাবার পথে মাটিরাঙ্গার বাইল্যাছড়ি সাইনবোর্ড এলাকায় আসলে পাহাড়ের আঞ্চলিক স্বশস্ত্র সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট-ইউপিডিএফ‘র ১০/১২জন নারী কর্মী এবং ৩/৪জন পুরুষ কর্মী বাসের গতিরোধ করে।
এরপর তারা চট্টগ্রামগামী বিছমিল্লাহ পরিবহন নামের যাত্রীবাহী বাসে স্বামীর পাশে বসা স্ত্রীকে তুলে নিয়ে যায়। এসময় স্বামী মো. নাজমুল হোসেন বাঁধা দিলে সন্ত্রাসীরা তাকে উল্টো হুমকি প্রদান করে বলে জানায় মো. নাজমুল হোসেন। তবে এসময় বাসের অন্য যাত্রীরা তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসেনি বলেও জানায় সে।
এদিকে ঘটনার পরপরই স্বামী মো. নাজমুল হোসেন প্রথমে গুইমারা থানায় ও পরে মাটিরাঙ্গা সেনা জোনকে স্ত্রী অপহরনের বিষয়টি জানালে বেলা ২টা থেকে মাটিরাঙ্গা জোনের জোনাল স্টাফ অফিসার মেজর ইমরুল কায়েস মেহেদী‘র নেতৃত্বে নিরাপত্তাবাহিনী ও গুইমারা থানা পুলিশ অপহৃত নারীকে উদ্ধারে সাইনবোর্ড, রাবারবাগানসহ আশেপাশের এলাকায় ব্যাপক তল্লাশী চালায়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অপহৃতকে উদ্ধারে যৌথবাহিনীর অভিযান চলছে বলে নিরাপত্তাবাহিনী সূত্রে জানা গেছে।
এমএ





