জুয়া খেলার দৃশ্য ধারণ করায় সাংবাদিকদের ওপর হামলা মামলার অন্যতম আসামীসহ এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অন্যতম হোতা জারজিদ মোল্যাকে গ্রেফতারের পর কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
সোমবার বিকাল ৫টার দিকে তাকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। এর আগে রবিবার (১৫ মে) দুপুরে কালিয়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
নড়াইলের কোর্ট ইন্সপেক্টর অজিত কুমার মিত্র জানান, কালিয়া উপজেলার পিরোলী ইউনিয়নের খড়রিয়া গ্রামের মৃত আব্দুস সামাদ মোল্যার ছেলে জারজিদ মোল্যাকে কালিয়া থানা পুলিশ দঃ বিঃ ১৫১ ধারায় আটকের পর সোমবার দুপুরে কোর্টে সোপর্দ করে।
বিকালে তাকে কোর্ট হাজত থেকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। জারজিদ মোল্যার বিরুদ্ধে কালিয়া থানায় দায়েরকৃত সাংবাদিকদের ওপর হামলা মামলায়ও (মামলা নং-১০,তারিখ-১৯/০৯/১৫) গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
এলাকাবাসীর সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় ত্রাস হিসেবে খ্যাত জারজিদ মোল্যার মদদে গত শনিবার ও রবিবার খড়রিয়া গ্রামে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। যার কারণে খড়রিয়াসহ আশেপাশের এলাকা অশান্ত হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ গত ১৫ মে দুপুরে কালিয়া এলাকা থেকে তাকে আটক করে।
এছাড়া, জারজিদ মোল্যার বিরুদ্ধে জুয়ার আসার বসানো, অসামাজিক কার্যকলাপ, মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধমুলক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
জারজিদ বাহিনীর হামলার শিকার নড়াইলের দু'জন গণমাধ্যমকর্মীরা জানান, জারজিদ মোল্যার নেতৃত্বে ২০১৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর খড়রিয়া বাজারে নৌকা বাইচ ও মেলার নামে জুয়ার আসর বসানো হয়। জুয়ার আসরে ১০/১২ বছরের শিশুরা জুয়া খেলছিল। জুয়া খেলার সেই দৃশ্য ধারণ করায় গণমাধ্যমকর্মী আব্দুস সাত্তার ও আসাদ রহমানের জারজিদ মোল্যার নের্তত্বে জুয়াড়ি ও তার বাহিনীর সদস্যরা হামলা চালায়।
ঘটনার সময় ওই সাংবাদিকদ্বয়ের নিকট থেকে ক্যামেরা, মোটর সাইকেল ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। পরে পুলিশ এসে সাংবাদিকদের উদ্ধার করে নড়াইল সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। ঘটনার পর খোয়া যাওয়া মোবাইল, মোটর সাইকেল ও ক্যামেরা উদ্ধার করে পুলিশ। তবে ডিজিটাল ক্যামেরার মেমোরিকার্ডটি ফেরত দেয় নি।
এদিকে ওই দুই সাংবাদিক হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা শেষে ঘটনার ঘটনার দুদিন পর ১৯ সেপ্টেম্বর আহত আব্দুস সাত্তার বাদী হয়ে কালিয়া থানায় ২৩জনের নাম উল্লেকসহ অজ্ঞাতদের আসামী করে মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-১০,তারিখ-১৯/০৯/১৫)। মামলা দায়েরের পর ৮মাস অতিবাহিত হলেও রহস্যজনক কারনে পুলিশ আসামীদের গ্রেফতার করেনি। এমনকি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুর্বল চার্জশিট আদালতে প্রেরণ করায় ক্ষুদ্ধ হন মামলার বাদীসহ সাংবাদিক সমাজ।
এ ঘটনায় মামলাটি পুনরায় তদন্তের দাবি জানিয়ে আদালতে নারাজি আবেদন করেন মামলার বাদী।
বাদী আবদুস সাত্তার জানান, জারজিদ মোল্যাসহ আসামীরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে ফিরে বেড়ালেও রহস্যজনক কারনে পুলিশ তাদেরকে ধরেনি। এলাকায় হামলা-ভাংচুরসহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকা অশান্ত হয়ে পড়ায় জারজিদকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
কিন্তু সাংবাদিকদের দায়ের করা মামলায় গ্রেফতারের ব্যাপারে পুলিশের উদাসীনতা রহস্যজনক।
কালিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল গণি জানান, আটক জারজিদকে ১৫১ ধারায় কোর্টে প্রেরণ করা হয়েছে।
পাশাপাশি সাংবাদিকদের ওপর হামলায়ও গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এদিকে সাংবাদিকদের ওপর হামলা মামলায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নড়াইলের সাংবাদিক সমাজ।
এমআইএস





