প্রায় সবখানে এখন একই আলোচনা- কী আছে সাকা চৌধুরীর ভাগ্যে? মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, আমৃত্য কারাদণ্ড, মেয়াদভিত্তিক সাজা নাকি খালাস? বিএনপির প্রভাবশালী নেতা ও প্রাক্তন মন্ত্রীর চূড়ান্ত আইনি লড়াইয়ের ফলাফল জানতে সবার দৃষ্টি তাই আজ সুপ্রিম কোর্টের দিকে।

বহুল আলোচিত এ মামলার রায়ের দিকে উৎসুক হয়ে তাকিয়ে আছে দেশের মানুষ। পাশাপাশি রায়-পরবর্তী সহিংসতা নিয়েও উৎকণ্ঠা রয়েছে সবার মনে।

আপিল বিভাগের রায়ে ট্রাইব্যুনালের দেওয়া ফাঁসির দণ্ড বহাল থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

অপরদিকে ন্যায়বিচারের স্বার্থে সব দিক বিবেচনা করে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা থেকে আদালত সাকা চৌধুরীকে খালাস দেবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন তার প্রধান আইনজীবী অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন।

আজ বুধবার সকাল ৯টার পর প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ সাকা চৌধুরীর বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করবেন। বেঞ্চের অপর তিন বিচারপতি হলেন বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

গত ৭ জুলাই উভয় পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে সাকা চৌধুরীর রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করেছিলেন আপিল বিভাগ।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আপিল বিভাগের পঞ্চম রায় হবে এটি।

২০১০ সালের ১৬ ডিসেম্বর সকালে হরতালে গাড়ি পোড়ানোর একটি মামলায় সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে গ্রেফতার করা হয়। একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয় ১৯ ডিসেম্বর। ২০১২ সালের ৪ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে তার বিচার শুরু করেন ট্রাইব্যুনাল।

ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষে এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. নূরুল ইসলামসহ মোট ৪১ জন সাক্ষ্য দেন। তদন্ত কর্মকর্তার কাছে দেওয়া আরো চারজনের জবানবন্দি সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা হয়। অন্যদিকে সালাউদ্দিন কাদেরের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেন তিনি নিজেসহ মোট চারজন।

ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়া শেষে ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর সাকা চৌধুরীকে ফাঁসির দণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

চট্টগ্রামের রাউজানে কুণ্ডেশ্বরী ঔষধালয়ের মালিক নূতন চন্দ্র সিংহকে হত্যা, সুলতানপুর ও ঊনসত্তরপাড়ায় হিন্দু বসতিতে গণহত্যা এবং হাটহাজারীর এক আওয়ামী লীগ নেতা ও তার ছেলেকে অপহরণ করে খুনের দায়ে সাকা চৌধুরীকে ফাঁসি দেওয়া হয়।

তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আনা মানবতাবিরোধী অপরাধের মোট ২৩টি অভিযোগের মধ্যে ৯টি অভিযোগ ট্রাইব্যুনালের রায়ে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়।

২০১৩ সালের ২৯ অক্টোবর ফাঁসির দণ্ড থেকে খালাস চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেন তিনি।
গত ১৬ জুন সাকা চৌধুরীর আপিল মামলার শুনানি শুরু হয়।

৭ জুলাই দুই পক্ষের আপিল শুনানি শেষ হয়। আপিলে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। সঙ্গে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোমতাজ উদ্দিন ফকির, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একরামুল হক ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ।

সাকা চৌধুরীর পক্ষে শুনানি করেন খন্দকার মাহবুব হোসেন ও আইনজীবী এস এম শাহজাহান। সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার তানভীর আহমেদ আল-আমিন।