২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার সাক্ষী জজ মিয়ার মা জোবেদা খাতুনের তৃতীয় দিনের জেরা শুরু হয়েছে।

ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে স্থাপিত ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টায় তার জেরা শুরু হয়। তাকে জেরা করছেন আসামি শরীফ শাহেদুল আসলাম বিপুলের আইনজীবী কুতুব উদ্দীন।

এর আগে সোমবার দ্বিতীয় দিনের জেরা করেন আসামি পক্ষের আইনজীবী আব্দুস সোবহান তরফদার।

গত ৮ সেপ্টেম্বর সোমবার দুপুর দেড়টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত তার সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। বিচারক শাহেদ নুরুদ্দিন তার জবানবন্দি গ্রহণ করেন। এ সময় আদালতে জজ মিয়া ও তার বোনও উপস্থিত ছিলেন।

এর পর ১০ সেপ্টেম্বর বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় বিচারক শাহেনূর উদ্দিনের উপস্থিতিতে মামলার ১০২ নম্বর সাক্ষী জোবেদা খাতুনকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।

ওই দিন আসামি আবুল কালাম আজাদ, আবদুর রহিম, আব্দুল রশিদ ও রুহুল আমিনের আইনজীবী আবদুস সোবহান তরফদার, হেলাল উদ্দিন ও জসীম উদ্দিন সাক্ষীকে জেরা করেন। আসামি মুন্সি আতিকের আইনজীবী এ সময় জেরায় অংশ নেননি।

এ মামলায় ২০০৮ সালের ১১ জুন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সিনিয়র এএসপি ফজলুর কবির মুফতি হান্নানসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন। ২০০৮ সালের ২৯ অক্টোবর থেকে ২০০৯ সালের ৯ জুন পর্যন্ত ৬১ জনের সাক্ষ্য নেন ট্রাইব্যুনাল। ২০০৯ সালের ৩ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষ মামলাটি অধিকতর তদন্তের আবেদন করলে ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করেন। মামলাটি তদন্তের ভার পান সিআইডির পুলিশ সুপার আবদুল কাহার আকন্দ। তিনি ২০১১ সালের ৩ জুলাই প্রথম অভিযোগপত্রে ২২ আসামিকে বাদ দিয়ে তারেক রহমানসহ ৩০ জনের নাম যুক্ত করে মোট ৫২ জনের নামে অভিযোগপত্র দেন।

মামলার ৫২ আসামির মধ্যে খালেদা জিয়ার ভাগ্নে লে. কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ডিউক, সাবেক আইজিপি মো. আশরাফুল হুদা, শহিদুল হক ও খোদা বক্স চৌধুরী এবং সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার আরিফুর রহমানসহ ৮ জন জামিনে আছেন।

সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী আলী আহসান মুজাহিদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু, মুফতি আব্দুল হান্নানসহ ২৫ জন আসামি কারাগারে আটক আছেন।

অন্যদিকে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, বিএনপি নেতা কাজী মোয়াজ্জেম হোসেন কায়কোবাদসহ ১৯ জন আসামি পলাতক আছেন।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জনসভায় সন্ত্রাসীরা গ্রেনেড হামলা চালায়। এতে আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন। আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান। আহত হন দলের শতাধিক নেতাকর্মী।

এ ঘটনায় মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফারুক হোসেন, আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল জলিল ও সাবের হোসেন চৌধুরী বাদী হয়ে মতিঝিল থানায় পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করেন।

ঢাকা, ১৬ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, কেএইচ