নারায়ণগঞ্জের সাত খুন মামলার আসামি র্যাবের সদস্য হাবিলদার নাসির উদ্দিন ও বাবুল হাসান ১৬৪ ধারায় পৃথক মামলায় আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।
রোববার দুপুরে হাবিলদার নাসির উদ্দিন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মনোয়ারা বেগমের আদালতের খাস কামরায় এবং বাবুল হাসান সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাইদুজ্জামান শরিফের আদালতের খাস কামরায় জবানবন্দি দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ মণ্ডল জানান, সাত খুন মামলার আসামি মেজর আরিফের বডিগার্ড বাবুল হাসান স্বেচ্ছায় আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলে আদালত তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন।
এই নিয়ে নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনায় র্যাবের প্রাক্তন ১৫ জন সদস্যসহ মোট ১৭ জন জবানবন্দি দিলেন। র্যাবের নয়জন সদস্যসহ মোট ১৬ জন সাক্ষী হিসেবে ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। এ হত্যাকাণ্ডে এখনো পর্যন্ত র্যাবের ১৫ সদস্যসহ ২৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সাত খুনে জড়িত অভিযোগে গত ১ ডিসেম্বর কুমিল্লার র্যাবের কার্যালয় থেকে তিন সদস্যকে গ্রেফতারের পরদিন তাদের নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মনোয়ারা বেগমের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়। আদালত সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গ্রেফতাররা হলেন কুমিল্লা র্যাব-১১ তে কর্মরত এ.এস.আই বজলুর রহমান, হাবিলদার নাসিরউদ্দিন ও হাবিলদার আবুল কালাম আজাদ।
পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে হাবিলদার নাছির উদ্দিন ১৬৪ ধারায় জবাবন্দি দিতে ইচ্ছা প্রকাশ করলে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। র্যাবের অপর সদস্য বাবুল হাসান আদালতে আত্মসমর্পণ করে ১৬৪ ধারায় জবাবন্দি দিয়েছেন।
গত ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম এবং আইনজীবী চন্দন কুমার সরকারসহ সাত জন অপহৃত হন। পরে ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ছয় জনের এবং পরদিন একজনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় নিহত কাউন্সিলর নজরুল ইসলামসহ পাঁচ জনকে অপহরণের পর হত্যার ঘটনায় তার স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি ফতুল্লা মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
অন্যদিকে, আইনজীবী চন্দন সরকার ও তার গাড়ির চালক ইব্রাহিম অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় তার জামাতা বিজয় কুমার পাল বাদী হয়ে অপর একটি মামলা দায়ের করেন ফতুল্লা মডেল থানায়।
জেএ





