সিলেট শাহাজলাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও তার স্ত্রী অধ্যাপক ড. ইয়াসমিন হককে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে।
মোবাইল ফোনে ক্ষুদেবার্তার মাধ্যমে এ হুমকি দেয়া হয়। পরে তারা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন।
এ বিষয়ে জালালাবাদ থানার ওসি আক্তার হোসেন বলেন, এই অধ্যাপক দম্পতির নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ সতর্ক রয়েছে।
জানা গেছে, গত বুধবার জাফর ইকবাল ও ইয়াসমিন হক ঢাকায় অবস্থানকালে জঙ্গি সংগঠন আনসারউল্লাহ বাংলা টিমের পরিচয়ে তাদের মোবাইল ফোনে ক্ষুদেবার্তার (০১৬২৯৯৬৭৫৫১) মাধ্যমে হুমকি দেয়া হয়।
পরে শুক্রবার সিলেটে ফিরেই জাফর দম্পতি জালালাবাদ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
ডায়েরিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১২ অক্টোবর বুধবার স্ত্রীসহ ঢাকাস্থ বনানীতে অবস্থান করছিলেন তারা। ওইদিন রাত সোয়া ১২টায় ইয়াসমিন হকের মোবাইল ফোনে একটি ক্ষুদে বার্তা আসে। সেখানে লেখা, welcome to our new top list! Your breath may stop at anytime.abt.
পরে রাত আড়াইটায় জাফর ইকবালের মোবাইল ফোনে একটি ক্ষুদেবার্তা আসে। তাতে লেখা, hi unbeliever! We will strangulate you soon.
এর আগে, বুধবার দিনগত রাত ১টার দিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং তেল-গ্যাস, খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্যসচিব আনু মুহাম্মদকে হত্যার হুমকিদেয়া হয়েছে।
বুধবার রাত একটার দিকে বেসরকারি মোবাইল ফোন অপারেটর এয়ারটেলের ০১৬২৯৯৬৭৫৫১ নম্বর থেকে একটি খুদেবার্তায় এই হুমকি দেওয়া হয়। খুদেবার্তায় লেখা ছিল ‘Death keeps no calendar, and Ansatullah knows no time!’।
সেটিও ফেসবুকের মাধ্যমে জানিয়ে আনু মুহাম্মদ বলেন, 'সমাজে যারা প্রশ্ন তোলার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করছে, এ কাজ তারাই করতে পারে বলে আমার ধারণা।'
রামপুরা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী শাহান হক জানান, এ বিষয়ে থানায় একটি জিডি করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আনু মুহাম্মদকে হত্যার হুমকি দেয়ায় ইতিমধ্যে ফেসবুকে নিন্দা ঝড় ওঠেছে। অনেকে তাকে আইনি সহায়তা নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ সুন্দরবনের রামপালে কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের বিরোধিতা করে আসছেন। এছাড়া দেশীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রতিবাদী স্বর হিসেবে সমাদৃত তিনি।
এসএম





